কাতারের রাস লাফান শিল্পনগরীতে একটি ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ভারতীয় ও পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত নাগরিকরা রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান ‘কাতার এনার্জি’র প্রধান নির্বাহী সাদ বিন শ্রেদা আল-কাবি। সোমবার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, রোববার সন্ধ্যায় রাস লাফান শিল্পনগরীর বারজান স্থানীয় গ্যাস সরবরাহ কেন্দ্রে পরিচালন কার্যক্রম শুরু করার সময় এই আকস্মিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে এবং পরবর্তীতে সেখানে তীব্র অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়।
হতাহতদের পরিচয় ও বিভিন্ন দেশের নাগরিকত্ব
স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহত ১৩ জন ভারত ও পাকিস্তানের নাগরিক হলেও, তাৎক্ষণিকভাবে কোন দেশের কতজন মারা গেছেন তা সুনির্দিষ্টভাবে জানা যায়নি। অন্যদিকে, বিস্ফোরণ ও আগুনে আহতদের তালিকায় ভারত, কাতার, তানজানিয়া, পাকিস্তান, গিনি, নেপাল, বাংলাদেশ, কেনিয়া ও নাইজেরিয়াসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা রয়েছেন। কাতার এনার্জি জানিয়েছে, বিস্ফোরণের পরপরই জরুরি সেবাদানকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে সেখানকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
ভারতীয় দূতাবাসের সংহতি ও সহায়তা সেল গঠন
এদিকে দোহায় অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস এক বিবৃতিতে নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) প্রকাশিত এক বার্তায় দূতাবাস বলেছে, রাস লাফানের এই মর্মান্তিক ঘটনায় প্রাণ হারানো ব্যক্তিদের স্বজনদের প্রতি তারা গভীর সহানুভূতি প্রকাশ করছে। এই কঠিন সময়ে কাতার সরকারের পাশাপাশি দেশটির জনগণের প্রতি ভারতীয় দূতাবাস ও কাতারে বসবাসরত ভারতীয় সম্প্রদায় পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করছে। একই সঙ্গে আহতদের দ্রুত আরোগ্য এবং নিখোঁজদের নিরাপদে ফিরে আসার কামনা করা হয়েছে। নিহত ও আহতদের পরিবারের জরুরি সহায়তার জন্য দূতাবাস দুটি আলাদা হেল্পলাইন বা সহায়তা নম্বর এবং যোগাযোগের জন্য একটি ইমেইল ঠিকানা চালু করেছে।



















