মব সন্ত্রাস বা গণপিটুনি বলতে বোঝায়, যখন একদল জনতা কোনো ব্যক্তিকে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে শারীরিক নির্যাতন করে বা পিটিয়ে গুরুতর আহত করে, এমনকি হত্যা পর্যন্ত করে ফেলে। এই ধরনের ঘটনায় সাধারণত কোনো অভিযোগের ভিত্তিতে (যেমন: চুরি, ডাকাতি, অপহরণ, ছেলেধরা সন্দেহ, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ইত্যাদি) জনতা উত্তেজিত হয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আইনের কাছে সোপর্দ না করে নিজেরাই বিচার ও শাস্তি কার্যকর করতে নেমে পড়ে।
কেন মব সন্ত্রাস ঘটে?
মব সন্ত্রাসের পেছনে বেশ কিছু কারণ থাকতে পারে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
- আইনের শাসনের দুর্বলতা: যখন মানুষ মনে করে যে প্রচলিত আইন ব্যবস্থা অপরাধীদের শাস্তি দিতে ব্যর্থ হচ্ছে বা বিচার প্রক্রিয়ায় আস্থা কমে যায়, তখন তারা নিজেরাই বিচার করতে উৎসাহিত হয়।
- গুজব ও ভুল তথ্য: অনেক সময় গুজব বা ভিত্তিহীন তথ্যের উপর ভিত্তি করে জনতা উত্তেজিত হয়ে পড়ে এবং নির্দোষ মানুষকেও আক্রমণ করে। যেমন, ছেলেধরা সন্দেহে অনেক সময় নিরীহ মানুষ গণপিটুনির শিকার হয়।
- সামাজিক অস্থিরতা ও অবিশ্বাস: সমাজে যখন অস্থিরতা বা নিরাপত্তাহীনতার বোধ তৈরি হয়, তখন মানুষ সহজেই উত্তেজিত হয়ে আইন নিজের হাতে তুলে নেয়।
- রাজনৈতিক বা গোষ্ঠীগত উস্কানি: কখনো কখনো রাজনৈতিক বা গোষ্ঠীগত স্বার্থে জনতাকে উস্কানি দিয়ে মব সন্ত্রাস ঘটানো হয়।
- পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা: কিছু ক্ষেত্রে পুলিশের সময় মতো পদক্ষেপ না নেওয়া বা নিষ্ক্রিয়তাও মব সন্ত্রাস বাড়িয়ে তুলতে পারে।
মব সন্ত্রাসের পরিণতি
মব সন্ত্রাস একটি গুরুতর অপরাধ এবং এর পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ। এতে আক্রান্ত ব্যক্তিরা গুরুতর শারীরিক আঘাত পান, অনেকে মারাও যান। এর ফলে সমাজে অরাজকতা, নিরাপত্তাহীনতা এবং আইনের প্রতি অনাস্থা তৈরি হয়। আইন অনুযায়ী, গণপিটুনিতে জড়িত সকল ব্যক্তিই অপরাধী হিসেবে গণ্য হন এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।



















