সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের সমন্বয়ে সম্প্রতি গঠিত ত্রিপক্ষীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা জোট ‘মক্কা জয়েন্ট ডিটারেন্স অ্যাগ্রিমেন্ট’-কে আরও বিস্তৃত করার সুদূরপ্রসারী উদ্যোগ নিয়েছে আঙ্কারা। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলুকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের স্পষ্ট রূপরেখা অনুযায়ী এই জোটকে কেবল তিনটি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে আরও আঞ্চলিক দেশকে জোটে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তিন দেশের যেকোনো একটি আক্রান্ত হলে যৌথভাবে সহযোগিতার নীতিতে তৈরি এই মক্কা চুক্তির মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্য ও পুরো মুসলিম বিশ্বের নিরাপত্তা কাঠামোর এক নতুন অধ্যায় সূচিত হলো বলে মনে করছেন ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
প্রতিরক্ষা চুক্তিটির সম্ভাব্য সম্প্রসারণের তালিকায় বর্তমানে সবচেয়ে সামনের সারিতে রয়েছে মিসরের নাম। মিসরকে এই জোটে যোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে অন্যতম ‘স্বাভাবিক অংশীদার’ হিসেবে বিবেচনা করা হলেও আইনি ও সামরিক জটিলতা এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষা করে সিদ্ধান্ত নেওয়াটাই কায়রোর জন্য মূল চ্যালেঞ্জ। এছাড়া উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে কাতার ও কুয়েত এবং পাশাপাশি আজারবাইজান, সিরিয়া ও জর্ডানও ভবিষ্যতে এই প্রতিরক্ষা ছাতার নিচে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একটি ন্যাটো-ধাঁচের কঠোর সামরিক জোটের বদলে প্রাথমিকভাবে এটি নমনীয় ও প্রতিরোধমূলক আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে, যা মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক কৌশলগত সমীকরণকে পুনর্গঠন করতে সক্ষম।


















