সংযুক্ত আরব আমিরাতের মরু শহর দুবাইয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ও ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের পলাতক শীর্ষ নেতা এবং সাবেক মন্ত্রীদের পাহাড়সম অবৈধ সম্পদের চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। আন্তর্জাতিক অনুসন্ধান সংস্থা ও বিভিন্ন বিশ্বস্ত সূত্রের তথ্যানুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাতের বুর্জ খলিফা, মারশা দুবাই, ওয়াদি আল সাফা ও কৃত্রিম দ্বীপ পাম জুমেরার মতো সবচেয়ে ব্যয়বহুল এলাকাগুলোতে বাংলাদেশি পাচারকারীদের মালিকানায় অন্তত ৫৩টি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, বাড়ি, ভিলা, অফিস স্পেস ও হোটেল অ্যাপার্টমেন্টের তথ্য মিলেছে। বাংলাদেশ থেকে হুন্ডি এবং আমদানি-রপ্তানি চালানে জালিয়াতির মাধ্যমে পাচার করা হাজার হাজার কোটি টাকা দিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে এই সম্পদের সাম্রাজ্য। মার্কিন সংস্থা ‘সি৪এডিএস’ এবং ওসিসিআরপি-র ফাঁস করা তথ্যের ভিত্তিতে হাইকোর্টের নির্দেশে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), সিআইডি এবং বিএফআইইউ যৌথভাবে এসব মানি লন্ডারিংয়ের ঘটনায় জোর অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, দুবাইয়ে সবচেয়ে বেশি সম্পদের সাম্রাজ্য গড়েছেন পতিত সরকারের সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ। বিশ্বের সর্বোচ্চ ভবন বুর্জ খলিফায় দুটি এবং নাদ আল শিবায় ২৭টি ফ্ল্যাটসহ মেরিনা ভিসতা ও পাম জুমেরায় তাঁর ও তাঁর ভাইয়ের নামে বহু বাড়ি ও হোটেল অ্যাপার্টমেন্টের সন্ধান মিলেছে। এছাড়া বুর্জ খলিফায় আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি ও প্রিমিয়ার ব্যাংকের চেয়ারম্যান এইচ বি এম ইকবালের দুটি ফ্ল্যাট, কমার্শিয়াল স্পেস ও ভিলা পাওয়া গেছে। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের (লোটাস কামাল) স্বজন, সাবেক এমপি সৈয়দ এ কে একরামুজ্জামান এবং অন্যান্য প্রভাবশালী নেতাদের নামেও রাজকীয় ভবনে একাধিক সম্পদের মালিকানা শনাক্ত করা হয়েছে। সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট জানিয়েছে, অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান মনে করেন, পাচার করা অর্থ ফেরত আনার বৈশ্বিক প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল ও দীর্ঘমেয়াদী হলেও দ্রুত কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।


















