মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত কয়েক হাজার মার্কিন সেনাসদস্যের আগমনের ফলে ইরানের কৌশলগত দ্বীপগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের স্থল অভিযানের সম্ভাবনা প্রবল হয়ে উঠেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একদিকে কূটনীতির কথা বললেও, অন্যদিকে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিতে এবং ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা খর্ব করতে সামরিক পথ বেছে নেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছেন।
বর্তমান পরিস্থিতির গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
- সেনা সমাবেশ ও রণকৌশল: গত শনিবার প্রায় আড়াই হাজার মেরিন সেনা মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছেন, যারা উভচর যানে সমুদ্র থেকে উপকূলে উঠতে দক্ষ। এছাড়া আরও পাঁচ হাজার ছত্রীসেনা (প্যারাট্রুপার) পৌঁছানোর অপেক্ষায় রয়েছে। বর্তমানে একটি তৃতীয় মার্কিন বিমানবাহী রণতরিও এই অঞ্চলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
- প্রধান লক্ষ্যবস্তুসমূহ:
- খারগ দ্বীপ: ইরানের তেল রপ্তানির প্রধান কেন্দ্র (প্রায় ৯০% তেল এখান থেকে যায়)। ট্রাম্প সরাসরি ‘ইরানের তেল দখল’ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
- ইউরেনিয়াম মজুত: ট্রাম্পের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো ইরানের উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত দখল করা। এটি অত্যন্ত জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ একটি বিশেষ অভিযান (Special Ops) হতে পারে, কারণ এই মজুতগুলো মাটির নিচে সুরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে।
- ইরানের কঠোর হুঁশিয়ারি: ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ হুশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, মার্কিন সেনারা ইরানি ভূখণ্ডে পা রাখলে তাদের “আগুনে পুড়িয়ে মারা হবে”। ইরান ইতিমধ্যে হরমুজ প্রণালি প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে, যার ফলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৬ ডলার ছাড়িয়েছে।
- বিশ্লেষকদের আশঙ্কা: ফরেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ ফেলো এমা সালিসবারি মনে করেন, ট্রাম্পের এই আগ্রাসী সিদ্ধান্ত বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটাতে পারে। ২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণের তুলনায় ইরানে বর্তমান মার্কিন সেনাসংখ্যা অনেক কম, অথচ ইরানের আয়তন ইরাকের তিন গুণেরও বেশি। ফলে দ্বীপ দখল করা সহজ হলেও তা ধরে রাখা হবে চরম চ্যালেঞ্জিং।
- কূটনীতি বনাম যুদ্ধ: ট্রাম্প পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় ১৫ দফা শান্তি প্রস্তাব দিলেও তেহরান তা প্রত্যাখ্যান করেছে। তেহরানের দাবি—আগে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং হরমুজ প্রণালিতে ইরানের অধিকার স্বীকার করতে হবে।
একনজরে সামরিক শক্তি ও সম্ভাব্য সংঘাতের চিত্র
| বিষয় | বর্তমান তথ্য |
| মার্কিন সেনা | ৫,০০০ মেরিন ও ৫,০০০ প্যারাট্রুপার (প্রক্রিয়াধীন) |
| সম্ভাব্য লক্ষ্য | খারগ দ্বীপ ও পারমাণবিক স্থাপনা |
| জ্বালানি বাজার | তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৬ ডলার+ |
| ট্রাম্পের আলটিমেটাম | ৬ এপ্রিলের মধ্যে নিয়ন্ত্রণ না ছাড়লে অবকাঠামো ধ্বংসের হুমকি |
বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্প যদি সীমিত আকারেও স্থল অভিযান শুরু করেন, তবে ইরান রকেট, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে মার্কিন সেনাদের জন্য এক ‘মরণফাঁদ’ তৈরি করতে পারে।



















