মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং বাংলাদেশি নাবিকদের জীবন নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। লন্ডনে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার (আইএমও) কাউন্সিলের ৩৬তম বিশেষ অধিবেশনে এই উদ্বেগের কথা জানানো হয়। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ ২০২৬) লন্ডনস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বৈশ্বিক নৌ-বাণিজ্য নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন রাখতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল।
অধিবেশনের মূল আলোচনা ও বাংলাদেশের অবস্থান:
- প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব: আইএমও-র এই জরুরি অধিবেশনে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন ডেপুটি হাইকমিশনার ড. নজরুল ইসলাম।
- নাবিকদের নিরাপত্তা: ড. নজরুল ইসলাম তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধকবলিত অঞ্চলে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজে কর্মরত বাংলাদেশি নাবিকসহ বিশ্বের সকল সমুদ্রকর্মীদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিয়ে বাংলাদেশ সরকার অত্যন্ত চিন্তিত।
- আন্তর্জাতিক আইনের প্রতিফলন: জাতিসংঘ সমুদ্র আইন বিষয়ক কনভেনশন (UNCLOS) অনুযায়ী সব ধরনের নৌযানের অবাধ ও বৈধ চলাচলের প্রতি বাংলাদেশের পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
- কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান: অধিবেশনে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে গঠনমূলক সংলাপ ও কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত এই সংকট সমাধানের আহ্বান জানানো হয়, যাতে বিশ্বজুড়ে এর নেতিবাচক প্রভাব আরও দীর্ঘস্থায়ী না হয়।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের ফলে লোহিত সাগর ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠায় আন্তর্জাতিক নৌ-বাণিজ্যে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা নিরসনে বাংলাদেশের এই জোরালো অবস্থান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।


















