সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ সীমান্তে ভারতীয় খাসিয়া জনগোষ্ঠীর সদস্যদের ছোড়া গুলিতে সালেহ আহমদ জয়ধর (৩০) নামে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল, ২০২৬) দিবাগত রাতে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশের পর এই ঘটনা ঘটে।
বিজিবি এবং স্থানীয় সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার বিস্তারিত নিচে তুলে ধরা হলো:
১. ঘটনার বিবরণ
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর ৪৮ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজমুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান:
- সময়: বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।
- স্থান: সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সীমান্ত এলাকা দিয়ে সালেহ আহমদসহ তিন যুবক ভারতের অন্তত এক কিলোমিটার ভেতরে প্রবেশ করেন। তারা ভারতের চংকেট ও মারকানের বাগানের মধ্যবর্তী একটি সুপারি বাগানে অবস্থান করছিলেন।
- হামলা: স্থানীয় খাসিয়া জনগোষ্ঠীর সদস্যরা তাদের ‘চোর’ সন্দেহে ছররা বন্দুক দিয়ে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এতে সালেহ আহমদ ঘটনাস্থলেই গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।
২. নিহতের পরিচয়
নিহত সালেহ আহমদ জয়ধর সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার কারবালারটুক গ্রামের মৃত বিরাম আলীর ছেলে। তার সাথে থাকা অন্য দুই সহযোগী—একই গ্রামের মাসুম আহম্মদ (২০) ও নাজিরগাঁও এলাকার সুমন মিয়া (২৫) অক্ষত অবস্থায় সালেহ আহমদের মরদেহ বাংলাদেশে নিয়ে আসতে সক্ষম হন।
৩. বিজিবি’র প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ
বিজিবি’র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী ওই তিন যুবক মাদকের চালান আনার উদ্দেশ্যে অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করেছিলেন। সীমান্ত এলাকায় বিজিবি’র টহল জোরদার থাকা সত্ত্বেও রাতের অন্ধকারে তারা ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন।
৪. বর্তমান পরিস্থিতি
সালেহ আহমদের মরদেহ বর্তমানে বাংলাদেশে রয়েছে এবং এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া ও ময়নাতদন্তের প্রস্তুতি চলছে। সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা এড়াতে এবং এ ধরণের অনাকাঙ্ক্ষিত অনুপ্রবেশ রোধে বিজিবি স্থানীয়দের সতর্ক করেছে। ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর সাথে এই বিষয়ে পতাকা বৈঠক বা আনুষ্ঠানিক আলোচনার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে কি না, তা নিয়ে বিজিবি’র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কাজ করছেন।
সীমান্তবর্তী এলাকায় বসবাসরত নাগরিকদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি বারবার অবৈধ অনুপ্রবেশ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে আসছে।



















