পশ্চিমা সামরিক গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর এক নতুন মূল্যায়নে উঠে এসেছে যে, সাম্প্রতিক যুদ্ধ ও ইসরায়েলি-মার্কিন হামলায় শীর্ষ নেতাদের মৃত্যু এবং অবকাঠামোর ক্ষতি হলেও ইরানের মূল সামরিক শক্তি এখনো উল্লেখযোগ্যভাবে সক্রিয় রয়েছে। ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধের আগেই সুপরিকল্পিত প্রস্তুতি ও ‘মোজাইক প্রতিরক্ষা কৌশল’ গ্রহণের ফলে ইরান তাদের অস্ত্রভাণ্ডার ও কমান্ড কাঠামোকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে পেরেছে। এই মূল্যায়ন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবির চেয়ে ভিন্ন, যেখানে তিনি বলেছিলেন ইরান সামরিকভাবে সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।
গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মতে, ইরান তাদের দূরপাল্লার মিসাইল লাঞ্চার এবং ড্রোন উৎপাদন অবকাঠামো সারা দেশে ছড়িয়ে দিয়েছে এবং নিয়মিত অবস্থান পরিবর্তন করছে। ফলে এগুলোকে দ্রুত এবং নির্ভুলভাবে ধ্বংস করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। পশ্চিমা সূত্রগুলো জানায়, শীর্ষ নেতাদের মৃত্যুর পর দ্রুত বিকল্প নেতৃত্বকে সামনে আনার পূর্বপরিকল্পনা থাকায় দেশটির সামরিক কমান্ড কাঠামোতে কোনো বড় ধরনের ভাঙন ধরেনি। বিশেষ করে বিকেন্দ্রীকৃত সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার কারণে মাঠ পর্যায়ের কমান্ডাররা যেকোনো পরিস্থিতিতে দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখাতে সক্ষম।
ইসরায়েলের তথ্যমতে, যুদ্ধের আগে ইরানের কাছে প্রায় ২ হাজার ৫০০ ব্যালিস্টিক মিসাইল ছিল। যদিও ইরান যুদ্ধে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ব্যবহার করেছে, তবুও ইউরোপীয় ও উপসাগরীয় কর্মকর্তাদের ধারণা, দেশটির কাছে এখনো কয়েক হাজার দূরপাল্লার মিসাইল এবং কয়েক হাজার সক্রিয় ড্রোন মজুত রয়েছে। ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (DIA) মার্কিন কংগ্রেসে জানিয়েছে যে, ইরানের এই সক্ষমতা এখনো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্রদের জন্য বড় ধরনের হুমকি।
এই প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে যে, আলী খামেনি ও আলী লারিজানির মতো শীর্ষ নেতাদের মৃত্যু রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে বড় প্রভাব ফেললেও ইরানের শাসনব্যবস্থা এখনো স্থিতিশীল। তবে ক্রমাগত যুদ্ধ ও অর্থনৈতিক অবরোধের ফলে দেশটির অর্থনীতি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মতে, যদি বর্তমান যুদ্ধবিরতি ভেঙে যায়, তবে পাল্টা আঘাত হানার জন্য ইরানের প্রয়োজনীয় সামরিক রসদ ও কৌশলগত সক্ষমতা এখনো পুরোপুরি অটুট রয়েছে। তাই মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখনো যেকোনো মুহূর্তে উত্তপ্ত হয়ে ওঠার শঙ্কা রয়েই গেছে।
সূত্রঃ ব্লুমবার্গ



















