ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকদের সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীদের এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। আজ বুধবার (৮ এপ্রিল, ২০২৬) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে এই ঘটনার সূত্রপাত হয়। এর ফলে বর্তমানে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা সেবা এবং নতুন রোগী ভর্তি সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে।
ঘটনার বিস্তারিত ও বর্তমান পরিস্থিতি নিচে তুলে ধরা হলো:
১. ঘটনার সূত্রপাত
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অমর একুশে হলের এক শিক্ষার্থী চিকিৎসার জন্য জরুরি বিভাগে আসেন। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে একটি চিকিৎসাপত্র (প্রেসক্রিপশন) লিখে দেন। হাসপাতালে সরকারি ওষুধ সরবরাহ না থাকায় তাকে বাইরে থেকে ওষুধ কিনে আনতে বলা হয়।
২. উত্তেজনার কারণ
কিছুক্ষণ পর ওই শিক্ষার্থী ও তার সহপাঠীরা পুনরায় হাসপাতালে এসে দাবি করেন যে, চিকিৎসকের লিখে দেওয়া ওষুধ বাইরে কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না। এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে তারা কর্তব্যরত চিকিৎসকদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি এবং কয়েক দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
৩. বর্তমান পরিস্থিতি ও চিকিৎসা সেবা
ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানিয়েছেন:
- সেবা বন্ধ: সংঘর্ষের জেরে নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে জরুরি বিভাগে নতুন রোগী ভর্তি আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে।
- উত্তেজনা: হাসপাতালের ভেতরে এবং বাইরে এখনো উত্তেজনা বিরাজ করছে। সাধারণ রোগীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
৪. প্রশাসনের পদক্ষেপ
শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন, খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং কোনো বড় ধরণের সহিংসতা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানানো হয়েছে।
এর আগেও বিভিন্ন সময় ঢামেক চিকিৎসক ও ঢাবি শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছোটখাটো বিরোধের ঘটনা ঘটেছে, তবে জরুরি বিভাগ বন্ধ হওয়ার মতো পরিস্থিতি সাধারণ রোগীদের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। উভয় পক্ষকে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে।



















