বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ এবং জুলাই বিপ্লবের চেতনা ধূলিসাৎ করার অভিযোগ তুলেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদীয় বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর মগবাজারে আল-ফলাহ মিলনায়তনে আয়োজিত ‘জেলা আমির সম্মেলনে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, বৃহত্তর স্বার্থে জামায়াত নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিলেও এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মূলত জনগণের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার মৃত্যু ঘটানো হয়েছে।
জামায়াত আমির বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে ‘নব্য ফ্যাসিবাদ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, বর্তমান সরকার অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি ভয়ংকর হয়ে উঠছে। তিনি অভিযোগ করেন, সংবিধানকে নিজের ইচ্ছামতো কাটছাঁট করে বিএনপি ফ্যাসিবাদী কায়দায় রাষ্ট্র পরিচালনা করছে এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণের মাধ্যমে ধ্বংস করে দিচ্ছে। সরকারের একজন মন্ত্রী ও সাবেক উপদেষ্টার সাম্প্রতিক বক্তব্যের সূত্র টেনে তিনি দাবি করেন, পর্দার আড়ালে কীভাবে নির্বাচনের ফলাফল নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে তা এখন দিনের আলোর মতো পরিষ্কার।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সংসদীয় গণতন্ত্র নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সংসদে বিরোধী দলের কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে এবং গণমাধ্যমের টুঁটি চেপে ধরা হচ্ছে। তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “সাদাকে সাদা আর কালোকে কালো বলুন; আমাদের বক্তব্যের খণ্ডিত অংশ নয়, বরং পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য প্রকাশ করুন।” দেশের সম্পদ লুটপাট ঠেকাতে এবং জনগণের ন্যায্য অধিকার আদায়ে জামায়াতে ইসলামী রাজপথ ও সংসদ—উভয় জায়গাতেই আপসহীন ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। একই সাথে ১১ দলীয় ঐক্য জোটবদ্ধভাবে রাজপথে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও তিনি জানান।



















