পুরান ঢাকার আরমানিটোলায় টিউশনিতে গিয়ে খুন হওয়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ছাত্রদল নেতা জোবায়েদ হোসাইন হত্যার ১৬ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও মামলা হয়নি। রবিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে সোমবার সকাল ১০টা পর্যন্ত নিহতের স্বজনরা থানায় অবস্থান করলেও পুলিশ মামলা নেয়নি।
বাদীপক্ষ জানায়, মামলায় কার নাম দেওয়া হবে তা নির্ধারণে পরিবার ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মধ্যে আলোচনা চলায় দেরি হচ্ছে। নিহতের বড় ভাই এনায়েত হোসেন সৈকত বলেন, “আমার ভাই হত্যার বিচার চাই। মেয়ে ও তার পরিবারের লোকজন যুক্ত। তাদের নাম ও ঠিকানা সংগ্রহ করা হচ্ছে, তারপর মামলা হবে।”
জানা গেছে, মামলার প্রস্তুতি নিতে গিয়ে নিহতের বাবা, ভাই ও চাচারা সারারাত বংশাল থানায় ছিলেন। তবে রাত ১টা থেকে ৩টার মধ্যে ওসি না থাকায় দেরি হয়।
বংশাল থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, “যাদের নাম দিয়ে মামলা করতে চায়, নিতে রাজি আছি। তবে বলেছি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে।”
এর আগে আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে শিক্ষার্থীরা বংশাল থানার সামনে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ ও তাঁতীবাজার মোড় অবরোধ করেন। পরে ছাত্রী বারজিস শাবনাম বর্ষাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ।
নিহত জোবায়েদ ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী ও জবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য ছিলেন। পাশাপাশি তিনি কুমিল্লা জেলা ছাত্রকল্যাণ সংসদের সভাপতি ছিলেন।
গত এক বছর ধরে তিনি আরমানিটোলার রৌশান ভিলা নামের বাসায় বর্ষাকে বিজ্ঞান পড়াতেন। রবিবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে ওই বাসার তৃতীয় তলায় ছুরিকাঘাতে নিহত হন জোবায়েদ। সিঁড়িতে তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।



















