অপরাধী যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ. রবিবার (৩১ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরের দুর্গম পাহাড়ি এলাকা পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এই কঠোর বার্তা দেন. পরিদর্শনের সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এখানকার অবৈধ দখলদারদের একটি সুনির্দিষ্ট তালিকা ইতিমধ্যেই তৈরি করা হয়েছে. তবে তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, জঙ্গল সলিমপুরের স্থানীয় প্রকৃত অধিবাসীদের কাউকেই উচ্ছেদ করা হবে না এবং তাদের কীভাবে যথাযথভাবে পুনর্বাসন করা যায়, সরকার সেই স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে.
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, দায়িত্ব গ্রহণের পর বর্তমান সরকার গত এক মাসে দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে. জঙ্গল সলিমপুর এলাকা নিয়ে সরকারের একটি দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা রয়েছে এবং এখানকার ঝুলে থাকা কেন্দ্রীয় কারাগার স্থানান্তরের বিষয়টি শিগগিরই সমাধান করে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান. মন্ত্রী আরও স্পষ্ট করেন যে, শুধু সলিমপুর নয়, সারা দেশে চাঁদাবাজি, মাদক ও সন্ত্রাসীদের রুখে দিতে একযোগে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হবে. সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, কেউ যদি জঙ্গল সলিমপুরের সাধারণ মানুষকে উচ্ছেদের ভয় দেখায় কিংবা চাঁদা দাবি করে, তবে সরাসরি নাম উল্লেখ করে জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ দিন. অপরাধীর সামাজিক বা রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে.
এই গুরুত্বপূর্ণ পরিদর্শনের সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ভূমিপ্রতিমন্ত্রী মীর মো. হেলাল উদ্দিন, চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির, র্যাব-৭ এর অধিনায়ক, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা. জঙ্গল সলিমপুর পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী চট্টগ্রামের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত একটি বিশেষ পর্যালোচনা সভায় অংশ নিতে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসের উদ্দেশ্যে রওনা হন.
উল্লেখ্য, গত ১৯ জানুয়ারি এই দুর্গম এলাকায় অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে গিয়ে চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন র্যাবের উপ-সহকারী পরিচালক মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া. সেই ঘটনার পর গত ৯ মার্চ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একটি বড় ধরনের যৌথ অভিযানে পুরো এলাকার নিয়ন্ত্রণ প্রশাসনের হাতে নেয় এবং আলীনগরে একটি অস্থায়ী যৌথ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়. সর্বশেষ গত ২৪ মে গভীর রাতে শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াসিনের নেতৃত্বে কয়েকশ সশস্ত্র অপরাধী ভারী বুলডোজার নিয়ে সেই যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে একটি আকস্মিক হামলা চালায়. সন্ত্রাসীরা ক্যাম্পের দেয়াল গুঁড়িয়ে দেয় এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পথ রুদ্ধ করতে ভেতরের সড়ক কেটে বড় বড় গর্ত করে রাখে. প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী ব্যাপক গুলিবিনিময়ের পর হামলাকারীরা পাহাড়ের গভীরে পালিয়ে যায়. এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় গত ২৬ মে সীতাকুণ্ড থানায় ৪৩ জনের নাম উল্লেখসহ প্রায় ৩০০ অজ্ঞাতপরিচয় সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে, যার প্রেক্ষিতে বর্তমানে যৌথ অভিযান চলমান রয়েছে.



















