ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে ব্রিটেনের শুরু থেকেই সমর্থন দেওয়া উচিত ছিল—সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের এমন মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেছেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার। আজ রোববার (৮ মার্চ) স্কাই নিউজ ও বিবিসি-কে দেওয়া পৃথক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে ব্রিটেনকে শিক্ষা নিতে হবে এবং অন্ধভাবে কোনো দেশের পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করা ব্রিটেনের জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কোনো দেশের কাছে নিজের পররাষ্ট্রনীতি ‘আউটসোর্স’ বা ইজারা দেওয়া বর্তমান সরকারের নীতি নয়।
সম্প্রতি একটি ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানে টনি ব্লেয়ার মন্তব্য করেছিলেন যে, যুক্তরাষ্ট্র যখন ইরানের ওপর হামলা শুরু করে, তখন থেকেই ব্রিটেনের উচিত ছিল মিত্র হিসেবে তাদের পাশে দাঁড়ানো এবং ব্রিটিশ বিমানঘাঁটিগুলো ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া। ব্লেয়ারের মতে, দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তার জন্য এই জোট অটুট রাখা জরুরি। তবে ইভেট কুপার এই অবস্থানের সঙ্গে সরাসরি দ্বিমত পোষণ করে বলেন, “রাজনীতিতে এমন কিছু মানুষ আছেন যারা মনে করেন পরিস্থিতি যাই হোক না কেন আমাদের সব সময় যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন করতে হবে। আমি এই ধারণার সঙ্গে একেবারেই একমত নই।”
কুপার আরও উল্লেখ করেন যে, প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের প্রথম দায়িত্ব হলো ব্রিটিশ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ইরান যখন ওই অঞ্চলে ড্রোন ও মিসাইল হামলা শুরু করেছে, তখন ব্রিটেন তার মিত্রদের রক্ষায় প্রতিরক্ষামূলক (defensive) ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে, কিন্তু কোনো অবস্থাতেই বিনা পরিকল্পনায় বা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে আক্রমণাত্মক যুদ্ধে জড়াতে চায় না। ইরাক যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সেই সময়ের ভুলগুলো বর্তমান সরকারকে আরও সতর্ক ও স্বাধীন সিদ্ধান্ত নিতে উদ্বুদ্ধ করেছে।
উল্লেখ্য, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সম্প্রতি কিয়ার স্টারমারের এই ‘ধীরগতির’ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেছেন, ব্রিটেন অনেক দেরি করে ফেলেছে এবং তাদের সাহায্যের আর প্রয়োজন নেই। এমন ত্রিমুখী চাপের মুখেও ইভেট কুপার সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে বলেন যে, ব্রিটেন তার নিজস্ব জাতীয় স্বার্থ এবং বাস্তব পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।



















