ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে এক অত্যন্ত তেজস্বী ও তাৎপর্যপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও ঢাকা-১৫ আসনের সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ ২০২৬) জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের ওপর আনা শোক প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও সংসদের পবিত্রতা রক্ষায় তাঁর অবস্থান তুলে ধরেন।
বক্তব্যের মূল পয়েন্টসমূহ:
- সংসদ কলুষিত করার প্রতিবাদ: স্পিকারের কাছে জোরালো নিবেদন জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, এই সংসদ শহীদদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত। তাই কোনো “ফ্যাসিস্ট বা তাদের দোসর” (রাষ্ট্রপতিকে ইঙ্গিত করে) যেন এখানে বক্তব্য দিয়ে সংসদকে কলুষিত করতে না পারে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “এখানে আমরা সকলেই ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ের সৈনিক।”
- শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা: তিনি ৪৭-এর লড়াই থেকে শুরু করে ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ, পিলখানা হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বর এবং ২৪-এর জুলাই অভ্যুত্থানে নিহত আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ওয়াসিমসহ দেড় শতাধিক শিশুর আত্মত্যাগের কথা ভারাক্রান্ত হৃদয়ে স্মরণ করেন। বিশেষ করে শহীদ ইয়ামিন, সজল এবং আনাসের বীরত্বগাথা তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে।
- বিচারের দাবি ও নতুন বন্দোবস্ত: জুলাই গণহত্যার বিচারসহ বিগত সময়ের গুম-খুন, লুটপাট ও দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবি জানান তিনি। তাঁর মতে, জুলাই অভ্যুত্থানের মূল আকাঙ্ক্ষা হলো একটি নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত—যা হবে অন্তর্ভুক্তিমূলক, বৈষম্যহীন এবং আধিপত্যবাদমুক্ত।
- ঐতিহাসিক স্মৃতিচারণ: নাহিদ ইসলাম স্মরণ করিয়ে দেন যে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার মিছিলে নেতৃত্ব দিয়ে তাঁরাই এই সংসদ প্রাঙ্গণকে ফ্যাসিস্টমুক্ত করেছিলেন। তিনি আন্দোলনের ভ্যানগার্ড হিসেবে ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, ছাত্রশক্তি ও অন্যান্য বাম-ইসলামপন্থী ছাত্র সংগঠনের সাহসিকতার প্রশংসা করেন।
সংসদ কক্ষে উত্তেজনা ও ওয়াকআউট: বক্তব্য শেষে স্পিকার যখন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে ভাষণ দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানান, তখন জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের সংসদ সদস্যরা প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানান। স্পিকারের শান্ত থাকার আহ্বান উপেক্ষা করে তাঁরা রাষ্ট্রপতির ভাষণের প্রতিবাদে সংসদ কক্ষ থেকে ওয়াকআউট করেন।
নাহিদ ইসলামের এই বক্তব্য এবং বিরোধী দলের ওয়াকআউট ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম দিনেই এক নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে।



















