আগামী ২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে আগামী শনিবার পশ্চিমবঙ্গে আসছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি. রোববার ‘আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের’ মূল অনুষ্ঠানে তিনি যোগ দেবেন. রেড রোডের উক্ত কর্মসূচিতে বহু মানুষের সমাগম ঘটবে এবং মোদির পাশাপাশি সেখানে উপস্থিত থাকবেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী.
রেড রোড বন্ধ ও মঞ্চ নির্মাণের প্রস্তুতি
যোগ দিবসের এই বিশেষ কর্মসূচিটি কলকাতার অন্যতম ব্যস্ততম রাস্তা রেড রোডে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে. এই অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি ও যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:
- সাত দিন রাস্তা বন্ধ: অনুষ্ঠানের সার্বিক প্রস্তুতি ও নিরাপত্তার স্বার্থে রেড রোড সাত দিনের জন্য বন্ধ রাখা হচ্ছে.
- মঞ্চ নির্মাণ শুরু: ইতোমধ্যেই অনুষ্ঠানস্থলের মূল মঞ্চ নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে.
- যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা: মঞ্চ নির্মাণের কারণে গত রোববার রাত ১০টা থেকে আগামী রবিবার (২১ জুন) পর্যন্ত রেড রোডে সব ধরনের যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে.
নামাজে অনুমতি না দেওয়া নিয়ে ক্ষোভ ও বিতর্ক
রেড রোডে যোগ দিবসের অনুষ্ঠানের অনুমতি দেওয়া হলেও সম্প্রতি পবিত্র ঈদের নামাজ সেখানে আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তুলেছেন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের একাংশ. তাদের দাবি, একই স্থানে এক অনুষ্ঠানের অনুমতি দেওয়া হলে অন্যটির ক্ষেত্রেও সমান সুযোগ ও অধিকার থাকা উচিত.
দিলীপ ঘোষের কড়া প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্য
মঙ্গলবার (১৬ জুন) এই বিতর্কিত বিষয়টি নিয়ে রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি অত্যন্ত কঠোর ও কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন:
| বিষয় | দিলীপ ঘোষের বক্তব্য ও যুক্তি |
| রাস্তা বন্ধের যৌক্তিকতা | দিলীপ ঘোষ বলেন, প্রধানমন্ত্রী এলে সব রাস্তাই বন্ধ থাকে, তিনি যেখানেই যাবেন সেখানেই বন্ধ হয়. রেড রোডে যান চলাচল তুলনামূলক কম বলে সেখানে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে; অন্য কোনো রাস্তায় করলে সাধারণ মানুষের আরও বেশি সমস্যা হতো. |
| ঈদের নামাজের অনুমতি প্রসঙ্গে | ঈদের নামাজের জন্য রাস্তা বন্ধের দাবি নাকচ করে তিনি মন্তব্য করেন, “উনারা কোন ‘হরি-দাস-পাল’ যে তাদের জন্য রাস্তা আটকাতে হবে.” তিনি যোগ করেন যে প্রধানমন্ত্রী বা মুখ্যমন্ত্রীর জন্য রাস্তা আটকানো স্বাভাবিক এবং প্রধানমন্ত্রী বছরে একবারই আসছেন. দীর্ঘ ১০৭ বছর ধরে চলার পর একবার বন্ধ করাতে দমবন্ধ হয়ে যাওয়ার কিছু নেই. |
| বাংলাদেশ ও পাকিস্তান প্রসঙ্গ | এই প্রসঙ্গে আরও কঠোর হয়ে তিনি বলেন, “যান বাংলাদেশ, পাকিস্তানে চলে যান, সেখানে গিয়ে নামাজ পড়ুন, কেউ কিছু বলবে না. এখানে এসব কিছু চলবে না.” তিনি উল্লেখ করেন যে রাজ্যে এখন সরকার পাল্টে গেছে এবং মানুষ এগুলো বন্ধ করার জন্যই পরিবর্তন এনেছে, তাই এগুলো বন্ধ হবেই. |



















