রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বর এলাকায় একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের করপোরেট শাখার সামনে দিনদুপুরে লোকমান (৪৫) নামের এক মানি এক্সচেঞ্জ ব্যবসায়ীকে গুলি করে প্রায় ১৭ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে. রোববার (৭ জুন) বিকাল ৩টার পর এই চাঞ্চল্যকর ও বর্বরোচিত হামলার ঘটনাটি ঘটে. গুলিবিদ্ধ ব্যবসায়ী লোকমান রাজধানীর শাহজাহানপুরের বাসিন্দা. ঘটনার পর স্থানীয় পথচারীরা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান. মতিঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুজ্জামান তালুকদার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান যে, আহতের হাতে কনুইয়ের নিচে একটি এবং হাঁটুর নিচে দুইটি গুলি লেগেছে এবং বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন.
ঘটনা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রাথমিক পদক্ষেপ
পুলিশ জানায়, ঘটনার পরপরই জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার ও প্রাথমিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে. পরবর্তীতে পুলিশ প্রশাসন ঘটনাস্থল থেকে দুটি গুলির খোসা উদ্ধার করেছে. ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে ওসি জানান, ব্যবসায়ী লোকমান যখন মতিঝিল শাপলা চত্বর এলাকা দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন মোটরবাইকে আসা একদল দুর্বৃত্ত তাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায় এবং তার কাছে থাকা ১৭ লাখ টাকা ভর্তি ব্যাগটি ছিনিয়ে নিয়ে চোখের পলকে ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে যায়. এই ঘটনার সাথে জড়িত অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেফতার করতে পুলিশ ইতিমধ্যেই তাদের তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে.
গোয়েন্দা তথ্যে পূর্বপরিকল্পিত হামলার ইঙ্গিত
এদিকে একাধিক গোয়েন্দা সূত্র থেকে জানা গেছে, এই ছিনতাইয়ের ঘটনাটি সম্পূর্ণ পূর্বপরিকল্পিত এবং টার্গেটভিত্তিক. ঘটনার গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করে গোয়েন্দারা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানতে পেরেছেন:
- হামলাকারীদের সংখ্যা ও যান: মোট ৬ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি ৩টি মোটরসাইকেলে করে ওই ব্যাংকের করপোরেট শাখার সামনে এসে পরিকল্পিতভাবে ব্যবসায়ী লোকমানকে টার্গেট করে এই হামলা চালায়.
- তথ্য ফাঁসের সন্দেহ: গোয়েন্দাদের প্রবল ধারণা, ভিকটিম কর্তৃক ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ উত্তোলনের তথ্যটি আগে থেকেই কোনোভাবে ওই দুর্বৃত্ত চক্রের কাছে পৌঁছে গিয়েছিল; তাই এই তথ্য ফাঁসের বিষয়টি এখন গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে.
- গতিবিধি অনুসরণ: তারা আরও সন্দেহ করছেন যে, হামলাকারীরা একটি সংঘবদ্ধ পেশাদার ছিনতাই চক্রের সদস্য এবং তারা আগে থেকেই শাপলা চত্বর ও এর আশপাশের এলাকায় ওত পেতে অবস্থান নিয়ে লোকমানের গতিবিধি নিখুঁতভাবে অনুসরণ করছিল. বর্তমানে অপরাধীদের ধরতে একাধিক গোয়েন্দা টিম একযোগে মাঠে কাজ করছে.



















