বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, বর্তমানে দেশে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটের কারণে পাম্পগুলো এক নাজুক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল সোমবার (২৩ মার্চ, ২০২৬) সংবাদমাধ্যমকে জানান, ডিপো থেকে চাহিদার তুলনায় মাত্র তিন ভাগের এক ভাগ তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে যেসব পাম্পে তেলের মজুদ আছে সেগুলো খোলা রাখা হয়েছে, আর যেখানে তেল শেষ হয়ে গেছে সেগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ থাকছে। তবে তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, পাম্পগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই; পর্যাপ্ত সরবরাহ পেলেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে।
জ্বালানি খাতের এই অস্থিরতার পেছনে মূলত তিনটি বড় কারণ কাজ করছে:
- মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ: ইরান-ইসরায়েল সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে, যার প্রভাব সরাসরি বাংলাদেশে পড়েছে।
- ব্যাংক ছুটি: ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ছুটির কারণে ব্যাংক বন্ধ থাকায় পাম্প মালিকরা সময়মতো ‘পে-অর্ডার’ জমা দিতে পারেননি, ফলে ডিপো থেকে তেল সংগ্রহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
- প্যানিক বায়িং ও নিরাপত্তা ঝুঁকি: তেলের অভাব হতে পারে এমন আশঙ্কায় সাধারণ মানুষের মধ্যে অতিরিক্ত তেল কেনার প্রবণতা (Panic Buying) দেখা দিয়েছে। এছাড়া অনেক স্থানে পাম্পে বিশৃঙ্খলা ও তেল লুটের মতো নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণেও মালিকরা পাম্প বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন।
সাজ্জাদুল করিম আরও জানান, সরবরাহ সংকট ও নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত অনেক ডিলার তেল উত্তোলন স্থগিত রাখার কথা ভাবছেন। তবে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ব্যাংক খোলার পর এবং আমদানিকৃত তেলের নতুন চালান পৌঁছালে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে।



















