শুক্রবার , ৪ জুলাই ২০২৫ | ৬ই বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  1. অপরাধ
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. এভিয়েশন
  6. কৃষি
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলাধুলা
  9. ছবি
  10. জনদুর্ভোগ
  11. জনপ্রিয়
  12. জাতীয়
  13. ডেঙ্গু
  14. দুর্ঘটনা
  15. ধর্ম

গাজায় ইসরায়েলের ‘রক্তাক্ত গণহত্যা’: ৪৮ ঘণ্টায় নিহত ৩০০

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
জুলাই ৪, ২০২৫ ৪:৪৩ পূর্বাহ্ণ

Spread the love

ইসরায়েলি বাহিনী গত ৪৮ ঘণ্টায় গাজার ২৬টি স্থানে ‘রক্তাক্ত গণহত্যা’ চালিয়েছে, যাতে অন্তত ৩০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। গাজার সরকারি মিডিয়া অফিসের বরাত দিয়ে আল জাজিরা এই তথ্য জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) সকাল থেকে ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ৭৩ ফিলিস্তিনি, যাদের মধ্যে ৩৩ জন মার্কিন-ইসরায়েলি সমর্থিত জিএইচএফ পরিচালিত ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রগুলোতে সহায়তা নিতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন।

সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ গাজার আল-মাওয়াসিতে একটি তাঁবুতে হামলা চালিয়ে ১৩ জনকে হত্যা করেছে। একই সাথে গাজা শহরের পশ্চিমে বাস্তুচ্যুতদের আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহৃত মুস্তাফা হাফেজ স্কুলেও হামলায় ১১ জন নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় অসংখ্য মানুষ আহত হয়েছেন।

সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত ৪৮ ঘণ্টার অভিযানে ইসরায়েলি বাহিনী আশ্রয়কেন্দ্র, উদ্বাস্তু ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা, বাজার, পারিবারিক বাসস্থান এবং জরুরি খাদ্য সংগ্রহ করতে যাওয়া বেসামরিক মানুষদের লক্ষ্য করে আক্রমণ চালিয়েছে। আল জাজিরার রিপোর্টার তারেক আবু আজযুম দেইর আল-বালাহ থেকে জানিয়েছেন, ত্রাণ নিতে লাইনে দাঁড়ানো মানুষদের আকস্মিক গুলিবর্ষণে ঝাঁঝরা করে দেওয়া হচ্ছে, যা এক বিভীষিকাময় পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)-এর অনুসন্ধান অনুযায়ী, জিএইচএফ বিতরণ কেন্দ্রগুলোতে মোতায়েন করা বেসরকারি নিরাপত্তাকর্মীরা ক্ষুধার্ত মানুষের ওপর বুলেট ও স্টান গ্রেনেড ব্যবহার করছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই মার্কিন কন্ট্রাক্টর এপিক জানান, এই মিশনের অব্যবস্থাপনা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনে তারা মর্মাহত। তাদের দাবি, বেশিরভাগ নিরাপত্তা কর্মীই প্রশিক্ষণহীন এবং তাদের ‘ইচ্ছেমতো যেকোনো কিছু করার লাইসেন্স’ রয়েছে।

আল জাজিরার রিপোর্টার নূর ওদে আম্মান থেকে বলেন, জিএইচএফ শুধু আন্তর্জাতিক ত্রাণ ব্যবস্থাকে প্রতিস্থাপন করছে না, বরং এটি গাজার জনগণের ওপর চাপ প্রয়োগের একটি যন্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ইসরায়েলি বাহিনী অবশ্য দাবি করেছে যে, তারা বেসামরিক নাগরিকদের ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্য করছে না এবং নিহতের সংখ্যা অতিরঞ্জিত।

এদিকে, ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির সম্প্রতি বলেছেন, গাজায় “অনেক বেশি সাহায্য পাঠানো হচ্ছে”, যা “আমাদের বিজয় বিলম্বিত করছে।” জিএইচএফ কেন্দ্রগুলোতে নিয়মিতভাবে ইসরায়েলি বাহিনী এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো খাদ্য সংগ্রহ করতে আসা সাধারণ মানুষদের লক্ষ্য করে গুলি চালাচ্ছে। গত মে মাসে জিএইচএফ চালু হওয়ার পর থেকে ত্রাণ নিতে গিয়ে এ পর্যন্ত ৬০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৪,০০০-এর বেশি আহত হয়েছেন।

অক্সফাম, সেভ দ্য চিলড্রেন, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ ১৩০টির বেশি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা গত মঙ্গলবার এক যৌথ বিবৃতিতে জিএইচএফ বন্ধের দাবি জানিয়েছে। তারা অভিযোগ করেছে, জিএইচএফ এমন কার্যক্রমে সহায়তা করছে যার মাধ্যমে ক্ষুধাকে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি আগ্রাসনে এ পর্যন্ত গাজায় ৫৬,৬৪৭ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১,৩৪,১০৫ জন আহত হয়েছেন।

সর্বশেষ - অপরাধ