বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট এবং মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রলয়ঙ্করী প্রভাব মোকাবিলায় দেশে জরুরি ভিত্তিতে একগুচ্ছ ব্যয় সংকোচনমূলক ও কৃচ্ছ্রসাধন নীতি ঘোষণা করেছে সরকার। বৃহস্পতিবার রাতে জাতীয় সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিশেষ মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তগুলো জানান।
নিচে সংবাদ সম্মেলনে ঘোষিত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তসমূহ তুলে ধরা হলো:
১. অফিস ও ব্যাংকের নতুন সময়সূচি
আগামী কার্যদিবস থেকে কার্যকর হতে যাওয়া নতুন সময়সূচি অনুযায়ী:
- সরকারি ও বেসরকারি অফিস: সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত (১ ঘণ্টা কমানো হয়েছে)।
- ব্যাংক: সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত (লেনদেন), তবে আনুষঙ্গিক কাজ শেষে বিকেল ৪টায় বন্ধ হবে।
২. বাজার ও বিপণিবিতান নিয়ন্ত্রণ
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। এখন থেকে দেশের সব মার্কেট ও শপিংমল সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বন্ধ করতে হবে। তবে কাঁচাবাজার, ওষুধের দোকান এবং খাবারের দোকানের মতো জরুরি সেবাগুলো এই নির্দেশনার আওতামুক্ত থাকবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এটি কঠোরভাবে মনিটর করবে।
৩. পরিবহন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বড় পরিবর্তন
- ইলেকট্রিক বাস আমদানি: যানজট নিরসন ও জ্বালানি সাশ্রয়ে শুল্কমুক্ত সুবিধায় ইলেকট্রিক বাস আমদানির সিদ্ধান্ত হয়েছে। বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে নতুন ইলেকট্রিক বাস আমদানিতে শুল্ক কমিয়ে ২০ শতাংশ করা হয়েছে (পুরোনো বাস আনা যাবে না)।
- স্কুল বাস: যেসব স্কুল শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত গাড়ি কমাতে ইলেকট্রিক বাস সার্ভিসে যুক্ত হবে, তারা বিশেষ সরকারি সুবিধা পাবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য পৃথক নির্দেশনা আগামী রবিবার থেকে কার্যকর হতে পারে।
৪. ব্যয় সংকোচন ও বাজেট নিয়ন্ত্রণ
সরকারের বিভিন্ন খাতে খরচ কমাতে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে:
- জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাতের বাজেট থেকে ৩০ শতাংশ ব্যয় কমাতে হবে।
- আগামী ৩ মাস সরকারি কোনো নতুন গাড়ি (সড়ক, নৌ বা আকাশযান) এবং কম্পিউটার কেনা যাবে না।
- সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণ ও অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণের ৫০ শতাংশ বন্ধ।
- সভা-সেমিনারের আপ্যায়ন খরচও ৫০ শতাংশ কমানো হয়েছে।
৫. সামাজিক অনুষ্ঠানে আলোকসজ্জায় নিষেধাজ্ঞা
জ্বালানি সংকট চলাকালীন কোনো ধরনের বেসরকারি বিয়ে বা সামাজিক উৎসবে কোনো প্রকার আলোকসজ্জা করা যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে সরকার।
৬. জ্বালানি নিরাপত্তা ও আইন সংশোধন
- বিকল্প উৎস: মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে তেলের সরবরাহ লাইন ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া এবং কাজাখস্তান থেকে তেল আমদানির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
- পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ: ১৯৮০ সালের ‘পাবলিক এক্সামিনেশন অফেন্সেস’ আইন সংশোধন করে পরীক্ষার অপরাধের বিচার আরও কঠোর করার খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, প্রধানমন্ত্রী যাতায়াতের সময় বাঁচাতে এবং কাজ ত্বরান্বিত করতে খোদ সংসদ ভবনেই এই বৈঠকের আয়োজন করেছেন। সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘবে সরকার জ্বালানি খাতে ভর্তুকি অব্যাহত রাখার পাশাপাশি সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।



















