ভারতীয় লেখক, আইনজীবী ও অধিকারকর্মী বানু মুশতাক মঙ্গলবার (২০ মে, ২০২৫) আন্তর্জাতিক বুকার পুরস্কার জিতেছেন। তার ছোটগল্পের সংকলন ‘হার্ট ল্যাম্প’-এর জন্য তাকে এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। ৭৭ বছর বয়সী বানু মুশতাক কান্নাড়া ভাষায় লেখালেখি করেন এবং এই ভাষার লেখকদের মধ্যে তিনিই প্রথম এই পুরস্কার পেলেন।
লন্ডনের টেট মডার্ন গ্যালারিতে পুরস্কার গ্রহণ অনুষ্ঠানে বানু মুশতাক বলেন, “এই মুহূর্তটা যেন এক আকাশজুড়ে হাজারো জোনাকি একসঙ্গে জ্বলে ওঠার মতো— যা ক্ষণিক, উজ্জ্বল এবং ভয়াবহ রকমের যৌথ প্রচেষ্টা প্রসূত।” তিনি আরও বলেন যে, তিনি এই সম্মান ব্যক্তি হিসেবে নয়, বরং বহু কণ্ঠের সমবেত কণ্ঠস্বর হিসেবে গ্রহণ করছেন।
বানু মুশতাকের ছোটগল্পের সংকলন দীপা ভাস্তি কান্নাড়া ভাষা থেকে ইংরেজিতে অনুবাদ করেছেন। পুরস্কারের অর্থমূল্য ৫০ হাজার পাউন্ড (৬৭ হাজার ডলার), যা তিনি অনুবাদক দীপা ভাস্তির সঙ্গে সমানভাবে ভাগ করে নেবেন।
‘হার্ট ল্যাম্প’ সংকলনে ১৯৯০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে প্রকাশিত ১২টি গল্প রয়েছে, যেখানে দক্ষিণ ভারতের মুসলিম সমাজের দৈনন্দিন জীবন, বিশেষ করে নারী ও কিশোরীদের অভিজ্ঞতা গুরুত্ব পেয়েছে। সমালোচকরা বানু মুশতাকের গল্পের শুষ্ক ও কোমল রসবোধ, বুদ্ধিদীপ্ত ও কথ্য ভাষায় লেখার ভঙ্গি এবং পিতৃতন্ত্র, জাতিভেদ ও ধর্মীয় রক্ষণশীলতার তীব্র সমালোচনার প্রশংসা করেছেন।
বানু মুশতাক ভারতের দক্ষিণ-পশ্চিমের কর্ণাটক রাজ্যে বসবাস করেন এবং নারী অধিকার রক্ষা ও বৈষম্যবিরোধী আইনি লড়াইয়ের জন্য সুপরিচিত। জুরি বোর্ড তার গল্পের চরিত্রগুলোকে ‘টিকে থাকার এবং প্রতিরোধের বিস্ময়কর প্রতিচ্ছবি’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
অনুষ্ঠানে বানু মুশতাক বলেন, “আমার [এই সংকলনের] গল্পগুলো নারীদের ঘিরেই আবর্তিত হয়েছে। ধর্ম, সমাজ এবং রাজনীতি কীভাবে তাঁদের থেকে নিঃশর্ত আনুগত্য দাবি করে, এর মাধ্যমে তাঁদের ওপর কীভাবে অমানবিক নিষ্ঠুরতা চালানো হয়— এ সব গল্পে আমি তা বর্ণনা করতে চেষ্টা করেছি।”
বিচারকমণ্ডলীর সভাপতি ম্যাক্স পোর্টার ‘হার্ট ল্যাম্প’-কে ‘ইংরেজি পাঠকদের জন্য সত্যিকারের নতুন কিছু’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, “এটি একটি বিপ্লবাত্মক (র্যাডিক্যাল) অনুবাদ, যা ভাষার গতিপথ বদলে দেয়, ভিন্ন ভিন্ন ইংরেজির মধ্যে নতুন রূপ ও ছোঁয়া তৈরি করে। এটি আমাদের অনুবাদের ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করে এবং বিস্তৃত করে।”



















