ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাবে দেশে জ্বালানি তেলের অস্থিরতা এখন মাঠ পর্যায়ে পৌঁছেছে। শনিবার (৭ মার্চ) মানিকগঞ্জের বিভিন্ন পাম্প ঘুরে দেখা গেছে তীব্র সংকট এবং দীর্ঘ সারি। অধিকাংশ পাম্পে ‘তেল নাই’ সাইনবোর্ড ঝুললেও হাতেগোনা দু-একটি পাম্পে মিলছে সীমিত তেল। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকদের জন্য কঠোর নিয়ম করা হয়েছে; হেলমেট পরিহিত চালকদের দিনে সর্বোচ্চ ২০০ থেকে ২৪০ টাকার তেল (অকটেন) দেওয়া হচ্ছে। এই সামান্য পরিমাণ তেল দিয়ে জরুরি কাজ সারা সম্ভব হচ্ছে না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ গ্রাহক ও পণ্য সরবরাহকারীরা।
সংকট চলাকালীন সময়েও অসাধু পাম্প কর্তৃপক্ষ ও খুচরা বিক্রেতাদের সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সাধারণ মানুষ পাম্পে তেল না পেলেও খুচরা বাজারে প্রতি লিটারে ২০ থেকে ৩০ টাকা অতিরিক্ত দামে তেল পাওয়া যাচ্ছে। খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, তারা মধ্যরাতে পাম্পগুলো থেকে গোপনে অতিরিক্ত দামে তেল সংগ্রহ করছেন। গ্রাহকদের মতে, একদল মানুষ আতঙ্কে অতিরিক্ত তেল মজুত করায় এবং অসাধু ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট তৈরি করায় ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। তারা মনে করছেন, যাদের প্রকৃত প্রয়োজন তাদের যাচাই-বাছাই করে তেল দিলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।
পাম্প কর্তৃপক্ষ ডিপো থেকে সরবরাহ কমে যাওয়ার অজুহাত দিলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মানিকগঞ্জ কার্যালয় জানিয়েছে, তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করা হলে বা নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি রাখা হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশাসনের নিয়মিত তদারকি এই মুহূর্তে জনভোগান্তি কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন ভুক্তভোগীরা।



















