বুধবার (১ এপ্রিল, ২০২৬) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী দেশের অর্থনৈতিক গতিপথ পরিবর্তনের এক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানান, বর্তমান সরকার ঋণনির্ভর অর্থনীতির চিরাচরিত কাঠামো থেকে বেরিয়ে এসে একটি বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।
অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যের মূল বিষয়গুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
- টাকা ছাপানো বন্ধ ও মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ: অর্থমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, সরকার ঘাটতি মেটাতে নতুন করে টাকা ছাপাতে চায় না। বরং দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার মাধ্যমেই কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে চায়।
- কর-জিডিপি অনুপাত ও জিডিপির আকার: বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত কম হওয়ার বিষয়ে তিনি মন্তব্য করেন যে, জিডিপির আকার এবং কর আদায় সরাসরি সম্পর্কিত। অর্থনীতি চাঙ্গা না হলে কর আদায় বাড়ানো কঠিন। তাই বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করাই সরকারের অগ্রাধিকার।
- দীর্ঘমেয়াদী নীতিমালার নিশ্চয়তা: বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জনে নীতিমালার ধারাবাহিকতার ওপর জোর দিয়েছেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ঘনঘন নীতি পরিবর্তন বিনিয়োগকারীদের কাছে ভুল বার্তা পাঠায়। তাই আসন্ন বাজেটে দীর্ঘমেয়াদী ও স্থিতিশীল নীতিমালার প্রতিফলন থাকবে।
- বাজেট পরিকল্পনা: বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্য মাথায় রেখেই আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়ন করা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য যে, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ব্যাংকিং খাতের সংস্কার এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীল করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। তাঁর এই নতুন ঘোষণা দেশের বেসরকারি খাত ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।



















