মঙ্গলবার , ৩ জুন ২০২৫ | ৬ই বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  1. অপরাধ
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. এভিয়েশন
  6. কৃষি
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলাধুলা
  9. ছবি
  10. জনদুর্ভোগ
  11. জনপ্রিয়
  12. জাতীয়
  13. ডেঙ্গু
  14. দুর্ঘটনা
  15. ধর্ম

ঈদ আনন্দের মধ্যেই বন্যা আতঙ্ক: তলিয়ে যাচ্ছে বিস্তীর্ণ এলাকা

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
জুন ৩, ২০২৫ ১:৪৪ পূর্বাহ্ণ

Spread the love

পবিত্র ঈদুল আজহার উৎসবের মধ্যেই দেশের প্রায় সব নদনদীর পানি বাড়তে থাকায় সংলগ্ন অঞ্চলজুড়ে বন্যা আতঙ্ক তীব্র হয়েছে। এরই মধ্যে বিস্তীর্ণ এলাকা তলিয়ে গেছে, যার ফলে বহু মানুষ দুর্ভোগে পড়েছে। নিচে আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর তুলে ধরা হলো:


গাইবান্ধা: ব্রহ্মপুত্র, ঘাঘট ও তিস্তার পানি বৃদ্ধি

থেমে থেমে বৃষ্টি ও উজানের ঢলে গাইবান্ধার সব নদনদীর পানি বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। জেলার ব্রহ্মপুত্র, ঘাঘট নদ এবং তিস্তা ও করতোয়া নদীর পানি বেড়েছে। যদিও এখনো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, তবে পানি বৃদ্ধির কারণে গাইবান্ধা সদর উপজেলার কামারজানি ও ঘাগোয়া, ফুলছড়ি উপজেলার এরান্ডাবাড়ী ও ফজলুপুর এবং সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর ও হরিপুর ইউনিয়নের মানুষের মাঝে বন্যা আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। গতকাল (রবিবার) সকাল ৯টায় গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নিয়ন্ত্রণকক্ষের তথ্যানুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্রের পানি ফুলছড়ি স্টেশনে ৭৮ সেন্টিমিটার, ঘাঘটের পানি জেলা শহরের নতুন ব্রিজ স্টেশনে ৫৮ সেন্টিমিটার, করতোয়ার পানি গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার চকরহিমাপুরে ২৫ সেন্টিমিটার এবং তিস্তার পানি সুন্দরগঞ্জ উপজেলাসংলগ্ন কাউনিয়া স্টেশনে ২১ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে।


নেত্রকোনা: বৃষ্টিপাত বৃদ্ধি, তবে বন্যার আশঙ্কা নেই

কয়েক দিনের টানা বর্ষণে নেত্রকোনা জেলার সব নদনদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও সোমেশ্বরীসহ প্রধান নদনদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত চার দিনে নেত্রকোনার প্রায় সব কটি উপজেলায় হালকা, মাঝারি ও ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। জেলায় সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ১৭৯.২ মিলিমিটার। ফলে সোমেশ্বরী ছাড়াও উব্দাখালী, মগড়া নদী এবং কংস ও ধনু নদের পানি বেড়েছে। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, বর্তমানে বন্যার কোনো আশঙ্কা নেই।


ব্রাহ্মণবাড়িয়া: আখাউড়ায় পাহাড়ি ঢলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

আখাউড়ায় টানা বৃষ্টি ও ভারতের পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা অবনতি হয়েছে। নতুন করে আরও কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে এবং গ্রামীণ রাস্তাঘাট, কৃষিজমি, পুকুর-জলাশয় তলিয়ে গেছে। আখাউড়া স্থলবন্দরের শুল্ক ও ইমিগ্রেশন অফিসের সামনের চত্বরেও পানি প্রবেশ করেছে। স্থলবন্দর নিকটবর্তী আখাউড়া-আগরতলা আন্তর্জাতিক সড়কের প্রায় ১০০ মিটার জুড়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে, যার ফলে ৪ শতাধিক পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।

আখাউড়া স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক (ট্রাফিক) মাহমুদুল হাসান বলেছেন, বন্যায় বন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। গতকাল সকালে ছয়টি ট্রাকে প্রায় ২৫ মেট্রিক টন মাছ ভারতে রপ্তানি হয়েছে। আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জি এম রাশেদুল ইসলাম জানান, গতকাল সকাল ৯টা পর্যন্ত তথ্য অনুযায়ী ১৮-১৯টি গ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে এবং প্রায় ৪৫০টি পরিবার পানিবন্দী। ১১টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে, যেখানে প্রায় ৫০ জন আশ্রয় নিয়েছেন।


সিলেট: কুশিয়ারা নদীর বাঁধ ভেঙে জকিগঞ্জে ভয়াবহ বন্যা

সিলেটে বৃষ্টিপাত কিছুটা কমলেও উজানের ঢলে প্রবল স্রোতের তোড়ে কুশিয়ারা নদীর বাঁধ ভেঙে সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলায় ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। রবিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে বিভিন্ন এলাকায় নদী প্রতিরক্ষা বাঁধ (ডাইক) ভেঙে প্রবল বেগে লোকালয়ে পানি ঢুকতে শুরু করে। সকাল হওয়ার আগে অন্তত চার থেকে পাঁচটি স্থানে ডাইকে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দেয়। এছাড়া অসংখ্য স্থানে ডাইক উপচে পানি প্রবেশ করে, এতে বিভিন্ন গ্রাম, হাটবাজার ও বসতবাড়ি প্লাবিত হয়। জকিগঞ্জ পৌর শহরের বাজারে হাঁটুসমান পানি ওঠায় ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়েছেন।

গতকাল সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ৩০.২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে সিলেটের আবহাওয়া অফিস। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় ৩২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছিল। গত কয়েকদিনের তুলনায় বৃষ্টিপাত অনেকাংশে কমে গেছে। তবে সিলেটে আরও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

সর্বশেষ - অপরাধ