ভারত থেকে বাংলাদেশে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং পুশ-ইন সফলভাবে প্রতিরোধ করতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) নীলফামারী-৫৬ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা একটি বিশেষ অভিযান শুরু করেছে. এই অভিযানের অংশ হিসেবে সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে নিয়মিত মাইকিং করার মাধ্যমে স্থানীয় সাধারণ জনগণকে সচেতন ও সতর্ক করা হচ্ছে. একই সঙ্গে সীমান্তে কোনো সন্দেহজনক ব্যক্তি বা অবৈধ কার্যকলাপ চোখে পড়লে তা তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ বিজিবি ক্যাম্প বা বিওপিকে অবহিত করার জন্য বিশেষভাবে আহ্বান জানানো হচ্ছে. বুধবার (৩ জুন) রাতে এক আনুষ্ঠানিক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে নীলফামারী-৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়ন.
বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, বুধবার রাত থেকেই ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ সব কোম্পানি ও বিওপি এলাকায় এই পুশ-ইন এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে. এর অধীনে বিজিবির নেতৃত্বে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, মেম্বার, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সীমান্তবর্তী বিভিন্ন স্পর্শকাতর এলাকায় সমন্বিত বিশেষ টহল পরিচালনা করা হচ্ছে. দেশের সার্বিক সীমান্ত সুরক্ষায় দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় বিজিবির সার্বক্ষণিক নজরদারি ও টহল কার্যক্রম বর্তমানে বহুগুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়.
সীমান্তের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নিয়মিত অতিরিক্ত টহল পরিচালনার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষ টহলও সাজানো হচ্ছে. বিশেষ করে রাতের অন্ধকারে সীমান্ত এলাকায় নিবিড় নজরদারি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিজিবি সদস্যরা হ্যান্ডমাইক, বাঁশি, টর্চলাইট, সার্চলাইটের পাশাপাশি নাইট ভিশন গগলসসহ বিভিন্ন আধুনিক পর্যবেক্ষণ সরঞ্জাম ব্যবহার করছেন. এর পাশাপাশি সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের গতিবিধির ওপর বিজিবির নিজস্ব গোয়েন্দা নজরদারিও ব্যাপক বৃদ্ধি করা হয়েছে.
এই বিশেষ অভিযান প্রসঙ্গে নীলফামারী-৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, সচেতনতামূলক এসব কর্মসূচির মাধ্যমে পুশ-ইন ও অবৈধ অনুপ্রবেশের মারাত্মক ঝুঁকি এবং তা প্রতিরোধে জনসম্পৃক্ততার গুরুত্ব সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরা হচ্ছে. একই সঙ্গে যেকোনো ধরনের সীমান্ত অপরাধ বন্ধে বিজিবি এখন বিশেষভাবে কাজ শুরু করেছে. দেশের সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করা ও অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধসহ সব ধরনের সীমান্ত অপরাধের বিরুদ্ধে বিজিবির এই কঠোর অভিযান ও নিবিড় নজরদারি আগামীতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন.



















