দেশের নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি থেকে স্বস্তি দিতে বহুল প্রতীক্ষিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (১০ মার্চ ২০২৬) সকাল পৌনে ১১টায় রাজধানীর বনানী টিঅ্যান্ডটি (T&T) মাঠে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি দেশব্যাপী এই কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দেওয়া অন্যতম প্রধান এই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকার দেশের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীকে আরও শক্তিশালী করার বার্তা দিয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই বনানী ও কড়াইল বস্তি সংলগ্ন এলাকায় উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। ভোর থেকেই হাজার হাজার মানুষ খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে মাঠে জড়ো হতে থাকেন, যা বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এক বিশাল জনসমুদ্রে রূপ নেয়। প্রধানমন্ত্রী নিজে উপস্থিত থেকে বেশ কয়েকজন সুবিধাভোগীর হাতে কার্ড তুলে দেন। এই কার্ডের মাধ্যমে কার্ডধারী পরিবারগুলো নিয়মিত চাল, ডাল ও তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী বিশেষ ভর্তুকি মূল্যে ক্রয় করতে পারবেন। পাশাপাশি ক্ষেত্রবিশেষে চিকিৎসা ও শিক্ষা সহায়তার সুবিধাও এই প্রকল্পের আওতায় রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ:
- লক্ষ্যমাত্রা: প্রথম ধাপে ঢাকা মহানগরীসহ দেশের নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় বিতরণ শুরু হলেও পর্যায়ক্রমে সারা দেশের যোগ্য পরিবারগুলোকে এই সুবিধার আওতায় আনা হবে।
- সরাসরি সুবিধা: নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো বাজারমূল্যের চেয়ে অনেক কম দামে রেশন সুবিধা পাবে, যা আমেনা খাতুনের মতো প্রান্তিক মানুষের জন্য এক বিশাল বড় স্বস্তি।
- নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা: অনুষ্ঠানস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা সুশৃঙ্খলভাবে কার্ড বিতরণে সহায়তা করছেন।
প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও এই অনুষ্ঠানে মন্ত্রিসভার সিনিয়র সদস্যবৃন্দ এবং ঢাকা মহানগরীর শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সরকারের নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ কেবল দরিদ্র বিমোচনেই নয়, বরং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা স্থিতিশীল রাখতে যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করবে।



















