বুধবার , ৩ জুন ২০২৬ | ২১শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  1. অপরাধ
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. এভিয়েশন
  6. কৃষি
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলাধুলা
  9. ছবি
  10. জনদুর্ভোগ
  11. জনপ্রিয়
  12. জাতীয়
  13. ডেঙ্গু
  14. দুর্ঘটনা
  15. ধর্ম

ইরানের ড্রোন হামলায় কুয়েতের বিমানবন্দর ক্ষতিগ্রস্ত

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
জুন ৩, ২০২৬ ৯:৩৬ পূর্বাহ্ণ

Spread the love

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে মারাত্মক পারমাণবিক ও সামরিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, যার জেরে দুই দেশই লিপ্ত হয়েছে তীব্র পাল্টাপাল্টি হামলায়. এই সংঘাতের রেশ ধরে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কুয়েত দাবি করেছে যে, ইরানের সাম্প্রতিক ড্রোন হামলায় তাদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে. মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা রাতভর ইরানের বিরুদ্ধে জোরদার ‘আত্মরক্ষামূলক’ সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে এবং একই সাথে ইরানের ছুড়ে দেওয়া একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও আক্রমণাত্মক ড্রোন সফলভাবে ভূপাতিত করেছে. মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক জরুরি বিবৃতিতে স্পষ্ট করেছে যে, হরমুজ প্রণালীতে অবস্থিত ইরানের কেশম দ্বীপে তাদের চালানো এই বিমান হামলাটি মূলত ‘মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইরানের ক্রমাগত হামলার চেষ্টার এক দাঁতভাঙা জবাব’. অন্যদিকে, ইরান এই আক্রমণের তীব্র বিরোধিতা করে দাবি করেছে, প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ হিসেবে তারা একটি ‘আঞ্চলিক দেশের’ ভেতরে অবস্থান করা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও হেলিকপ্টার লক্ষ্য করে ঝাঁকে ঝাঁকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে.

সেন্টকমের আনুষ্ঠানিক ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি উত্তপ্ত করতে কুয়েতের দিকে দুটি এবং বাহরাইনের দিকে তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে. এর মধ্যে কুয়েতের দিকে ছোড়া দুটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যভ্রষ্ট হয় কিংবা মাঝপথে ভেঙে পড়ে এবং বাহরাইনের দিকে ছোড়া তিনটি ক্ষেপণাস্ত্রকে যুক্তরাষ্ট্র ও বাহরাইনের যৌথ শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তাৎক্ষণিকভাবে মাঝ আকাশেই প্রতিহত করতে সক্ষম হয়. তবে পরবর্তীতে কুয়েতের সেনাবাহিনী অত্যন্ত উদ্বেগের সাথে জানায়, ইরানের ড্রোন হামলায় দেশটির আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সরাসরি আক্রান্ত হয়েছে, যার ফলে বিমানবন্দরের মূল ভবনের উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতিসহ বেশ কয়েকজন সাধারণ মানুষ আহত হয়েছেন. এই অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার কারণে বুধবার সকালে কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটির সব ধরনের উড়োজাহাজ চলাচল সাময়িকভাবে সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়. কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৌদ আবদুলআজিজ আল-ওতাইবি এই ন্যাক্কারজনক ঘটনাটিকে ‘ইরানের অপরাধমূলক আগ্রাসন’ বলে তীব্র নিন্দা জানান এবং আহতদের দ্রুত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতের কথা উল্লেখ করেন.

এই রক্তক্ষয়ী ও ধ্বংসাত্মক হামলাগুলো এমন এক সংকটময় সময়ে সংঘটিত হলো, যখন মূলত মার্কিন মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের যুদ্ধবিরতি নিয়ে চলমান শান্তি আলোচনা পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে. সেন্টকম আরও জানায়, কেশম দ্বীপে হামলার মূল লক্ষ্য ছিল একটি ইরানি সামরিক গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশন ধ্বংস করা এবং তারা এমন তিনটি আক্রমণাত্মক ইরানি ড্রোন ধ্বংস করেছে, যেগুলো আঞ্চলিক জলসীমা দিয়ে চলাচলরত সাধারণ বেসামরিক বাণিজ্যিক জাহাজের দিকে বিপজ্জনকভাবে ছুড়ে দেওয়া হয়েছিল. এই হামলার পর ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) মার্কিন প্রশাসনকে এক কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে যে, ‘হরমুজ প্রণালীর সার্বিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার জন্য এই আগ্রাসী মার্কিন সামরিক বাহিনীকে আগামীতে চরম ও চড়া মূল্য দিতে হবে’. উল্লেখ্য, কুয়েত ও বাহরাইনে বিপুলসংখ্যক মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে এবং এর আগেও বিভিন্ন সময়ে ইরান এই অঞ্চলের মার্কিন লক্ষ্যবস্তুগুলোতে হামলা চালিয়েছে.

এর আগে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছিল, হরমুজ প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্রের চাপিয়ে দেওয়া কঠোর নৌ অবরোধের অংশ হিসেবে তারা ইরানের দিকে অগ্রসরমান একটি খালি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়ে সেটিকে সম্পূর্ণ অচল করে দিয়েছে. সেন্টকমের দাবি অনুযায়ী, বতসোয়ানার পতাকাবাহী ‘এম/টি লেক্সি’ নামের ওই বাণিজ্যিক জাহাজটির ক্রুরা বারবার মার্কিন নৌবাহিনীর দেওয়া দিকনির্দেশনা ও সতর্কবার্তা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করায় একটি মার্কিন সর্বাধুনিক যুদ্ধবিমান থেকে জাহাজটির ইঞ্জিন কক্ষে সরাসরি ‘হেলফায়ার’ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়. সেন্টকম মঙ্গলবার এই ট্যাংকারটিতে নিখুঁত আঘাত হানার একটি রোমাঞ্চকর ভিডিও ফুটেজও জনসমক্ষে প্রকাশ করেছে. এদিকে, আন্তর্জাতিক মহলে এমন উত্তেজনার মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর তীব্র সমালোচকদের উদ্দেশে হুঙ্কার ছেড়ে ‘শান্ত থাকার’ আহ্বান জানিয়েছেন এবং দাবি করেছেন যে, ‘ইরান আসলে যুদ্ধ নয়, বরং সত্যি একটি চুক্তি করতে চায় এবং সেই চুক্তিটি শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের জন্যই অত্যন্ত ভালো ও লাভজনক একটি চুক্তি হবে’.

মার্কিন গণমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ডোনাল্ড ট্রাম্প মূলত এই সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ শর্তে বড় ধরনের সংশোধন চান এবং এই উদ্দেশ্যে তিনি ইতিমধ্যেই তাঁর জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টাদের সঙ্গে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক সম্পন্ন করেছেন. বিবিসি-র মার্কিন অংশীদার সিবিএস নিউজের এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের প্রস্তাবিত এই সংশোধনীর তালিকায় হরমুজ প্রণালীর ভবিষ্যৎ আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাপনা, ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সম্পূর্ণ অপসারণ এবং দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে একদম নতুন একটি আন্তর্জাতিক আলোচনার কাঠামো তৈরি করার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে. তবে গত সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই আমেরিকার এই সমস্ত দাবি ও সংশোধনী প্রস্তাব পুরোপুরি নাকচ করে দিয়ে বলেন, ওয়াশিংটন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ‘নিয়মিতভাবে নিজেদের অবস্থান বদলাচ্ছে এবং সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নতুন কিংবা পরস্পরবিরোধী অযৌক্তিক দাবি তুলে ধরছে’.

এরই মধ্যে চলমান ভয়াবহ আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথমবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও মার্কিন কংগ্রেসে প্রকাশ্যে হাজির হয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন. সেখানে তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বলেন যে, হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার বিনিময়ে ইরানকে মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা থেকে কোনো ধরনের অব্যাহতি দেওয়ার প্রস্তাব বা আশ্বাস যুক্তরাষ্ট্র কখনোই দেয়নি. রুবিও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, ‘ইরানের সাথে যেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে, তার সবকিছুই অত্যন্ত কঠোর শর্তসাপেক্ষ. নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হবে কেবল তখনই, যখন সেই মূল কারণগুলোর সমাধান হবে যার জন্য প্রথমে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল; আর সেই মূল কারণটি হলো ইরানের বিপজ্জনক পারমাণবিক কর্মসূচি’. কংগ্রেসে এক পর্যায়ে আইনপ্রণেতাদের সাথে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের সময় তিনি ঘোষণা করেন যে, ‘যুদ্ধ শেষ হয়ে গেছে’. তবে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের অবসান নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের ভবিষ্যৎ কৌশল ঠিক কী, তা নিয়ে মার্কিন আইনপ্রণেতারা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দিকে একের পর এক প্রশ্ন তুলতে থাকেন.

সর্বশেষ - অপরাধ

আপনার জন্য নির্বাচিত