সোমবার , ৫ অক্টোবর ২০২৬ |
  1. অপরাধ
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. এভিয়েশন
  6. কৃষি
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলাধুলা
  9. ছবি
  10. জনদুর্ভোগ
  11. জনপ্রিয়
  12. জাতীয়
  13. ডেঙ্গু
  14. দুর্ঘটনা
  15. ধর্ম

১০ এয়ারবাস কেনার চুক্তি ৭ অক্টোবর

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
অক্টোবর ৫, ২০২৬ ৯:৩৯ পূর্বাহ্ণ

Spread the love

বোয়িংয়ের পর এবার ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা এয়ারবাসের কাছ থেকেও বড় পরিসরে উড়োজাহাজ কিনতে যাচ্ছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। আগামী ৭ অক্টোবর এয়ারবাসের সঙ্গে ১০টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি সই হওয়ার কথা রয়েছে।

চুক্তির আওতায় চারটি এ৩৫০-৯০০ ওয়াইডবডি এবং ছয়টি এ৩২১নিও ন্যারোবডি উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। দীর্ঘদিনের আলোচনা ও মূল্যায়নের পর এই চুক্তি সম্পন্ন হলে বোয়িংনির্ভর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহরে প্রথমবারের মতো বড় পরিসরে এয়ারবাসের উড়োজাহাজ যুক্ত হবে।

রাজধানীর একটি হোটেলে আগামী বুধবার সন্ধ্যায় চুক্তি সই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে বলে বিমানের সংশ্লিষ্ট একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন। তবে ১০টি এয়ারবাসের চূড়ান্ত মূল্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত এর আগে জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশ এয়ারবাসের কাছ থেকে ১০টি উড়োজাহাজ কিনবে এবং অক্টোবরে এ বিষয়ে চুক্তি হতে পারে।

বোয়িং-এয়ারবাস মিলিয়ে ৩৫টি উড়োজাহাজ

এয়ারবাসের ১০টি উড়োজাহাজ যুক্ত হলে নতুন উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনায় বিমানের মোট সংখ্যা দাঁড়াবে ৩৫টি। এর মধ্যে ২৫টি বোয়িং এবং ১০টি এয়ারবাস।

এর আগে ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার জন্য প্রায় ৩৭০ কোটি মার্কিন ডলারের একটি প্যাকেজে সম্মত হয়েছে বিমান। ওই প্যাকেজে রয়েছে আটটি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, দুটি ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং চারটি ৭৩৭-৮।

এর পর আরও ১১টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি ৭৮৭-১০ এবং ছয়টি ৭৩৭-৮। সব মিলিয়ে বোয়িং ও এয়ারবাস মিলিয়ে বিমানের নতুন উড়োজাহাজ সংগ্রহের পাইপলাইনে থাকবে ৩৫টি উড়োজাহাজ। এর মধ্যে ১৯টি ওয়াইডবডি এবং ১৬টি ন্যারোবডি।

তবে এসব উড়োজাহাজ একসঙ্গে বহরে যুক্ত হবে না। এয়ারবাসের উড়োজাহাজগুলোর সরবরাহ ২০৩৩ সাল থেকে শুরু হয়ে ২০৩৬ বা ২০৩৭ সাল পর্যন্ত চলতে পারে বলে জানিয়েছেন বিমানমন্ত্রী। উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর দীর্ঘ উৎপাদনসূচি এবং আগে থেকেই উৎপাদন স্লট নিশ্চিত করার প্রয়োজনেই সরবরাহে এত দীর্ঘ সময় লাগবে।

মন্ত্রী জানিয়েছেন, উড়োজাহাজের মূল্য পরিশোধও মূলত সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। ফলে চুক্তি সইয়ের সঙ্গে সঙ্গে পুরো অর্থ পরিশোধ করতে হবে না।

দীর্ঘ ও মাঝারি দূরত্বের রুটে ব্যবহারের পরিকল্পনা

বিমানের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এয়ারবাসের এ৩৫০-৯০০ উড়োজাহাজ দীর্ঘপাল্লার রুটে এবং এ৩২১নিও আঞ্চলিক ও মাঝারি দূরত্বের রুটে ব্যবহার করা হবে।

নতুন উড়োজাহাজগুলো দিয়ে বিদ্যমান দীর্ঘপাল্লার রুটে ফ্লাইট পরিচালনার সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি সম্ভাবনাময় নতুন গন্তব্যে ফ্লাইট চালুর সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে বিভিন্ন রুটের যাত্রী চাহিদা অনুযায়ী ভিন্ন আকারের উড়োজাহাজ ব্যবহারের সুযোগও বাড়বে।

এয়ারবাসের চূড়ান্ত দাম এখনো প্রকাশ হয়নি

এয়ারবাসের ১০টি উড়োজাহাজের চূড়ান্ত মূল্য এখনো জানা যায়নি। উড়োজাহাজের দাম নির্ধারণে কেবিন বিন্যাস, ইঞ্জিন, খুচরা যন্ত্রাংশ, রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রশিক্ষণ সুবিধা এবং অর্থায়নসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করা হয়। এ কারণে তালিকাভুক্ত মূল্যের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তিমূল্যের উল্লেখযোগ্য পার্থক্য থাকতে পারে।

চুক্তি সইয়ের পর উড়োজাহাজগুলোর চূড়ান্ত মূল্য, সরবরাহের বিস্তারিত সময়সূচি এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক শর্ত সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

এদিকে সম্প্রতি নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে পাঁচটি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার ও ছয়টি ৭৩৭-৮ কেনার জন্য সম্পূরক চুক্তি সই হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

ক্রয়প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত বিমানের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, অতিরিক্ত ১১টি বোয়িং উড়োজাহাজ কিনতে প্রায় ২৫০ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয় হতে পারে। তবে বিমান বা সরকার এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এ চুক্তির আর্থিক মূল্য প্রকাশ করেনি।

মিশ্র বহর পরিচালনায় বাড়তি প্রস্তুতির প্রয়োজন

বোয়িংয়ের পাশাপাশি এয়ারবাসের উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত হলে বিমানকে দুই ভিন্ন নির্মাতার উড়োজাহাজ পরিচালনার জন্য বাড়তি প্রস্তুতি নিতে হবে। পাইলট ও প্রকৌশলীদের প্রশিক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ অবকাঠামো, খুচরা যন্ত্রাংশের সরবরাহ এবং গ্রাউন্ড সাপোর্ট ব্যবস্থায় পৃথক প্রস্তুতির প্রয়োজন হবে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পরিচালনা পর্ষদের সাবেক সদস্য ও এভিয়েশন বিশ্লেষক কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেন, বিমান বর্তমানে মূলত বোয়িংনির্ভর। এর সঙ্গে এয়ারবাস যুক্ত হলে বহরে বৈচিত্র্য আসবে, তবে প্রশিক্ষণ ও প্রকৌশল খাতে বাড়তি প্রস্তুতি নিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, এত বড় চুক্তিতে ক্রয়মূল্য, অর্থায়ন, ব্যয়, রক্ষণাবেক্ষণ খরচ ও দীর্ঘমেয়াদি দায়ের বিষয়ে আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি।

এভিয়েশন বিশ্লেষকদের মতে, শুধু উড়োজাহাজের সংখ্যা বাড়ালেই একটি এয়ারলাইনসের সক্ষমতা বাড়ে না। কোন রুটে কোন ধরনের উড়োজাহাজ ব্যবহার করা হবে, যাত্রী চাহিদা কতটা, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় কেমন এবং খুচরা যন্ত্রাংশের সরবরাহ কতটা নির্ভরযোগ্য—এসব বিষয়ও পরিকল্পিতভাবে পরিচালনা করতে হবে।

তাঁদের মতে, মিশ্র বহরের একটি সুবিধা হলো রুট ও যাত্রী চাহিদা অনুযায়ী উপযুক্ত আকারের উড়োজাহাজ ব্যবহারের সুযোগ। তবে পর্যাপ্ত যাত্রী, লাভজনক রুট এবং দক্ষ পরিচালন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা না গেলে বড় বহর উল্টো আর্থিক চাপ তৈরি করতে পারে।

আন্তর্জাতিক বাজারে অংশ বাড়ানোর লক্ষ্য

দেশের আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন বাজারে বিদেশি এয়ারলাইনসের উপস্থিতি শক্তিশালী। এর মধ্যে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালুর মাধ্যমে বিমান পরিবহনের অবকাঠামোগত সক্ষমতা বাড়ানোর প্রস্তুতিও চলছে। এই প্রেক্ষাপটে নতুন উড়োজাহাজ সংগ্রহের মাধ্যমে আগামী দশকে আন্তর্জাতিক যাত্রী পরিবহনে বিমানের সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

এভিয়েশন বিশ্লেষক এ টি এম নজরুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের এভিয়েশন বাজার সম্প্রসারিত হওয়ায় রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের জন্য সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তাঁর মতে, বড় বাজার ধরতে উড়োজাহাজের সংখ্যা ও আসন সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন রুট এবং কার্যকর বিপণন কৌশলও প্রয়োজন।

তিনি বলেন, একটি উড়োজাহাজের অর্ডার দেওয়ার পর তা দ্রুত হাতে পাওয়া যায় না; অনেক ক্ষেত্রে সরবরাহ পেতে কয়েক বছর সময় লাগে। এর মধ্যে বিমানের বর্তমান বহরের কিছু উড়োজাহাজ অবসরে পাঠানোর প্রয়োজন হবে। তাই নতুন উড়োজাহাজ সংগ্রহের পাশাপাশি সেগুলো নিয়মিত পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত রুট নেটওয়ার্ক ও পরিচালন সক্ষমতা তৈরি করাও গুরুত্বপূর্ণ।

সর্বশেষ - অপরাধ

আপনার জন্য নির্বাচিত