প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো আজ শনিবার (১৩ জুন) এক দিনের বিশেষ সফরে সপরিবারে কক্সবাজার তারেক রহমান। সকালে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি নিয়মিত ফ্লাইটে তিনি কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা দেবেন। সরকারপ্রধানের এই গুরুত্বপূর্ণ সফরকে কেন্দ্র করে পুরো কক্সবাজার জেলায় কঠোর ও নিটোল নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর আগমন, সমাবেশস্থল এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প এলাকা ইতোমধ্যেই সরজমিনে পরিদর্শন করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমেদ ও স্থানীয় দলীয় নেতৃবৃন্দ।
প্রধানমন্ত্রীর দিনের মূল কর্মসূচিসমূহ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিনব্যাপী সফরের কর্মসূচিতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:
- ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন: কক্সবাজারবাসীর দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন পূরণে পেকুয়া পৌরসভা এবং মাতামুহুরী নতুন উপজেলার আনুষ্ঠানিক ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী।
- বিকেলের জনসভা: বিকেল বেলা চকরিয়া বাস টার্মিনালে স্থানীয় বিএনপি আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেবেন তিনি。
- মেরিন ড্রাইভ পরিদর্শন: সফরকালে তিনি কক্সবাজারের বিখ্যাত ও দৃষ্টিনন্দন মেরিন ড্রাইভ সড়ক সশরীরে ঘুরে দেখবেন।
- সুধী সমাবেশ: দিনের কর্মসূচি শেষে সন্ধ্যার সময় তিনি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও সুধীজনদের নিয়ে আয়োজিত একটি বিশেষ সুধী সমাবেশে অংশ নেবেন।
প্রধানমন্ত্রীর কাছে কক্সবাজারবাসীর প্রধান প্রধান প্রত্যাশা ও দাবি
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে জেলার সাধারণ মানুষের পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝেও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও জোরালো প্রত্যাশার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় নাগরিক ও ব্যবসায়ী সমাজ জেলার সার্বিক অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকারপ্রধানের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করে নিম্নলিখিত দাবিগুলো তুলে ধরেছেন:
- যোগাযোগ ও শিক্ষা অবকাঠামো: চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক দ্রুত ছয় লেনে উন্নীতকরণ, কক্সবাজারে একটি পূর্ণাঙ্গ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন এবং মহেশখালী-কক্সবাজার চ্যানেলে একটি আধুনিক সেতু নির্মাণ।
- পর্যটন ও বিমানবন্দর: জেলার প্রধান অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি পর্যটন খাতের আধুনিক উন্নয়ন এবং কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আন্তর্জাতিক রুটে পূর্ণাঙ্গ ব্যবহার নিশ্চিতকরণ।
- রোহিঙ্গা ও সীমান্ত নিরাপত্তা: রোহিঙ্গা নাগরিকদের নিজ দেশে নিরাপদ প্রত্যাবাসনে সরকারের কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ, মাদক চোরাচালান সম্পূর্ণ বন্ধ করা এবং সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ।
- স্থানীয় শিল্প ও উপকূল রক্ষা: উপকূলীয় অঞ্চলের লবণ চাষিদের জন্য লবণের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ, ঐতিহ্যবাহী শুঁটকি শিল্প রক্ষা এবং কুতুবদিয়া দ্বীপকে ভাঙন থেকে রক্ষায় একটি দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ।


















