সোমবার , ২ নভেম্বর ২০২৬ |
  1. অপরাধ
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. এভিয়েশন
  6. কৃষি
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলাধুলা
  9. ছবি
  10. জনদুর্ভোগ
  11. জনপ্রিয়
  12. জাতীয়
  13. ডেঙ্গু
  14. দুর্ঘটনা
  15. ধর্ম

আন্দোলনের নামে যারা সহিংসতা করছে, তাদের উদ্দেশ্য ভিন্ন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
নভেম্বর ২, ২০২৬ ৭:৫৪ অপরাহ্ণ

Spread the love

সড়কে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পোশাকশ্রমিকদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, শ্রমিকদের অন্যতম দাবি ছিল মজুরি বোর্ড গঠন, যা ইতোমধ্যে পূরণ হয়েছে। এরপরও আন্দোলনের নামে সড়ক-মহাসড়কে অস্থিরতা ও সহিংসতা সৃষ্টির পেছনে ভিন্ন উদ্দেশ্য রয়েছে।

সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেলে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে পোশাকশ্রমিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মালিক ও শ্রমিক—উভয় পক্ষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শিল্প গড়ে ওঠে। শুধু পুঁজি বিনিয়োগ করলেই শিল্প প্রতিষ্ঠিত হয় না। শ্রমিকের শ্রম ও মালিকের পুঁজি একসঙ্গে যুক্ত হলেই উৎপাদন বাড়ে এবং দেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধ হয়। তাই উভয় পক্ষের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে শিল্পকারখানা সচল রাখতে হবে।

তিনি বলেন, শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মান ও অর্থনৈতিক অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মজুরি নির্ধারণের জন্য প্রতি তিন বছর অন্তর মজুরি বোর্ড গঠনের বিধান রয়েছে। শ্রমিকদের দাবি ছিল দ্রুত মজুরি বোর্ড গঠন করা। মালিকপক্ষ তাদের প্রতিনিধির নাম দিলেও শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধির নাম চূড়ান্ত করতে কিছুটা সময় লেগেছে। গত পরশু রাতে শ্রমিকপক্ষ তাদের প্রতিনিধির নাম দেওয়ার পর গতকাল সকালেই মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। এ প্রক্রিয়া কখনো বন্ধ ছিল না বলেও জানান তিনি।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মজুরি বোর্ডের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে শ্রমিকদের স্বার্থকে গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে মালিকপক্ষের বক্তব্যও বিবেচনায় রাখতে হবে, যাতে শিল্পকারখানা সচল থাকে এবং রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত না হয়। প্রধানমন্ত্রী শ্রমবান্ধব ও শিল্পবান্ধব নীতি অনুসরণের নির্দেশনা দিয়েছেন।

শ্রমিকদের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কোনো দাবি থাকলে প্রথমে স্মারকলিপির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়কে জানাতে হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। মজুরি বোর্ডের মতো নির্ধারিত ফোরামে শ্রমিকদের প্রতিনিধিরা নিজেদের দাবি তুলে ধরতে পারবেন।

গত কয়েক দিনের আন্দোলনের ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে কিছু উসকানিদাতার অনুপ্রবেশের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, এসব ব্যক্তি এমন কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছে, যাতে শ্রমিকদের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিভিন্ন ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া শ্রমিকদের আইনগত সহায়তার বিষয়টি সরকার দেখবে। আহতদের বিষয়েও যথাযথ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, শ্রমিক নেতারা ধর্মঘটের ডাক দেননি বা আন্দোলন করেননি। তাঁদের দাবি ছিল মজুরি বোর্ড গঠন, সেটি করা হয়েছে। ফলে এখন শ্রমিকদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোনো আন্দোলন চলছে না। যারা আন্দোলনের নামে সহিংসতা করছেন, তাঁদের পেছনে ভিন্ন উদ্দেশ্য রয়েছে।

কয়েকজন মুখোশধারীকে গ্রেপ্তারের কথাও জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, তাঁদের কেউ কেউ ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করছেন, রাজনৈতিক স্লোগান দিচ্ছেন এবং নিজেদের তথাকথিত পেশিবাদী গোষ্ঠীর প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন। এসব বিষয় শনাক্ত করা হয়েছে।

শ্রমিক নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের কাজে ফিরে যেতে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। মজুরি বোর্ডে শ্রমিকদের প্রতিনিধি রয়েছেন। সেখানে তাঁরা নিজেদের দাবি ও বক্তব্য তুলে ধরতে পারবেন।

সবাইকে শান্তি, শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শিল্পের উৎপাদনশীলতা ধরে রাখতে হবে, কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে হবে এবং বেকারত্ব দূর করতে হবে। মিল-কারখানা চালু রেখে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখা ও রপ্তানি বাড়াতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

সর্বশেষ - অপরাধ