আইসিডিডিআর,বি-র সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, কোনো ধরনের সরকারি প্রটোকল বা প্রেসক্রিপশন ছাড়া যত্রতত্র অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রির ফলে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াগুলো ক্রমশ অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী (Anti-Microbial Resistance – AMR) হয়ে উঠেছে। এর পাশাপাশি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়, বিশেষ করে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্বজনদের অবাধ যাতায়াত ও স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা না করায় অনেক রোগী নতুন করে জীবনঘাতী ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছেন।
গবেষণার ফলাফল ও বিশেষজ্ঞদের সুনির্দিষ্ট পর্যবেক্ষণসমূহ নিচে তুলে ধরা হলো:
- আইসিইউতে নতুন সংক্রমণ: গবেষণায় দেখা গেছে, হাসপাতালে ভর্তির সময় যেসব রোগী ব্যাকটেরিয়ামুক্ত ছিলেন, তাদের অর্ধেকেরও বেশি আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় নতুন করে ব্যাকটেরিয়ায় সংক্রামিত হয়েছেন।
- আইসিইউ প্রটোকল লঙ্ঘন: শেরে বাংলা নগর জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক প্রখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. ওয়াদুদ চৌধুরী জানান, ক্ষমতাধর ও শিক্ষিত শ্রেণির অনেকে প্রটোকল না মেনে যখন-তখন আইসিইউতে প্রবেশ করেন। ফলে দর্শনার্থীদের মাধ্যমেই নানা ক্ষতিকর জীবাণু রোগীদের দেহে ছড়ায় এবং সুস্থতার পরিবর্তে মৃত্যুর ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।
- অপেশাদার ফার্মাসিস্ট ও ভূয়া চিকিৎসক: জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. বেনজির আহমেদ উল্লেখ করেন যে, দেশের অধিকাংশ ফার্মেসিতে প্রশিক্ষিত ফার্মাসিস্ট নেই। সাধারণ সর্দি-জ্বর বা কাশিতে কালচার সেনসিটিভিটি (Culture Sensitivity) পরীক্ষা ছাড়াই দেদারসে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হচ্ছে, যা পরবর্তীতে মারাত্মক স্বাস্থ্য জটিলতা তৈরি করছে এবং আসল চিকিৎসায় অ্যান্টিবায়োটিক আর কাজ করছে না।
- আইসিডিডিআর,বি-র সুপারিশ: বিজ্ঞানী ডা. গাজী মোহাম্মদ আলাউদ্দিন মামুন চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি অবিলম্বে বন্ধ করা এবং আইসিইউসহ পুরো হাসপাতালে সংক্রামক ব্যাধি প্রতিরোধে দর্শনার্থী নিয়ন্ত্রণ নীতি কঠোরভাবে প্রয়োগের পরামর্শ দিয়েছেন।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল জানিয়েছেন, অ্যান্টিবায়োটিকের যত্রতত্র অপব্যবহার ও অবাধ বিক্রি বন্ধে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে বৈঠক করে শীঘ্রই কঠোর আইনি ব্যবস্থা ও মনিটরিং নিশ্চিত করা হবে।


















