বাংলাদেশ ও ইরানের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, পর্যটন এবং জনগণের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ আরও জোরদার করতে ঢাকা ও তেহরানের মধ্যে সরাসরি বিমান চলাচল (ফ্লাইট) চালুর আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। সোমবার (২২ জুন) জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে তাঁর কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাতকালে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত ড. জলিল রাহিমী জাহানাবাদী এই গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবটি তুলে ধরেন। সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক মহল মনে করছেন, দীর্ঘদিনের বন্ধুভাবাপন্ন এই দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগ চালু হলে ঢাকা-তেহরান বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।
বাণিজ্য ১ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার রোডম্যাপ ও পেট্রোকেমিক্যাল আমদানি
সৌজন্য সাক্ষাতে ইরানি রাষ্ট্রদূত ড. জলিল রাহিমী জাহানাবাদী বাংলাদেশ ও ইরানের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণকে আগামীতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করার দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সরাসরি ফ্লাইট চালু হলে দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, পর্যটন ও সাংস্কৃতিক বিনিময় বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে উল্লেখ করে বৈঠকে ইরান থেকে সাশ্রয়ী মূল্যে উচ্চমানের পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য, ইউরিয়া সার এবং বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী খাদ্যসামগ্রী আমদানির দারুণ সম্ভাবনা নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি খাত—বিশ্বমানের তৈরি পোশাক (আরএমজি) ইরানের বিশাল বাজারে সরাসরি আরও বেশি পরিমাণে রপ্তানি বৃদ্ধির বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের যাতায়াত সহজ করার তাগিদ
বৈঠকে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং ইরানি রাষ্ট্রদূত যৌথভাবে মত প্রকাশ করেন যে, সরাসরি বিমান যোগাযোগ চালু হলে উভয় দেশের ব্যবসায়ী, সাধারণ পর্যটক ও বড় বিনিয়োগকারীদের যাতায়াত অত্যন্ত সহজ ও সময়সাশ্রয়ী হবে। এর ফলে দুই দেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত হওয়ার পথ সুগম হবে। সরাসরি ফ্লাইট চালুর এই দ্বিপাক্ষিক প্রস্তাবটি বাস্তবায়নে উভয় দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।


















