ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতের জন্য নিজেদের গোলাবারুদ ও সামরিক সরঞ্জাম পর্যাপ্ত পরিমাণে মজুত রাখার উদ্দেশ্যে তাইওয়ানের কাছে ১৪ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রি সাময়িকভাবে স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। আজ শুক্রবার (২২ মে) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, গতকাল বৃহস্পতিবার (২১ মে) মার্কিন সিনেটের প্রতিরক্ষা বিষয়ক বরাদ্দ উপকমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশনে ভারপ্রাপ্ত নৌবাহিনী সচিব হাং কাও আইনপ্রণেতাদের সামনে এই কৌশলগত সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেন। সিনেট অধিবেশনে হাং কাও স্পষ্ট করে বলেন, মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর বিশেষ “এপিক ফিউরি” অভিযানের জন্য প্রয়োজনীয় গোলাবারুদের পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করতেই মূলত তাইওয়ানের জন্য নির্ধারিত এই বিশাল অস্ত্র প্যাকেজটিতে সাময়িক বিরতি বা স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে; তবে প্রশাসন পরিস্থিতি বিবেচনা করে প্রয়োজন মনে করলে এই বৈদেশিক সামরিক বিক্রি (FMS) আবারও চালু করা হবে। উল্লেখ্য, গত জানুয়ারিতে মার্কিন কংগ্রেস তাইওয়ানের জন্য এই বিশেষ অস্ত্র প্যাকেজটি অনুমোদন করলেও তা চূড়ান্তভাবে কার্যকর করতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুমোদনের প্রয়োজন, যা নিয়ে গত সপ্তাহে বেইজিংয়ে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ট্রাম্পের এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে তীব্র আলোচনা ও দরকষাকষি হয়েছিল। এই স্থগিতাদেশের বিষয়ে তাইওয়ানের প্রধানমন্ত্রী চো জুং-তাই নিজ দেশের সংবাদমাধ্যম এফটিভি নিউজকে জানিয়েছেন যে তাইওয়ান তার নিজস্ব সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অস্ত্র ক্রয় প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখবে; তবে ক্রাইসিস গ্রুপের উত্তর-পূর্ব এশিয়া বিষয়ক সিনিয়র বিশ্লেষক উইলিয়াম ইয়াং সতর্ক করে বলেছেন, এই সিদ্ধান্ত তাইওয়ানের প্রতি মার্কিন নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতি নিয়ে গভীর সংশয় বাড়িয়ে তুলবে। চীন শুরু থেকেই স্বশাসিত তাইওয়ানকে নিজের ভূখণ্ডের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে দাবি করে ওয়াশিংটনের সামরিক সমর্থনের তীব্র বিরোধিতা করে আসছে, যার মধ্যে গত ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি চললেও স্থায়ী শান্তি চুক্তির অভাবে এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও-র পরবর্তী পদক্ষেপের ওপরই এখন তাইওয়ানের এই প্রতিরক্ষা প্যাকেজের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে।



















