সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত বাংলাদেশি রেমিট্যান্স যোদ্ধা আবদুল্লাহ আল মামুনের মরদেহ আজ সোমবার (৬ এপ্রিল, ২০২৬) সকালে দেশে পৌঁছেছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী উপস্থিত থেকে মরদেহটি গ্রহণ করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন।
ঘটনার বিস্তারিত ও প্রবাসীদের কল্যাণে সরকারের পদক্ষেপগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. নিহত মামুনের হৃদয়বিদারক গল্প
ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার ভরভরা গ্রামের আবদুল্লাহ আল মামুন পরিবারের অভাব দূর করতে ২০ বছর বয়সে পাড়ি জমিয়েছিলেন সৌদি আরবে।
- দীর্ঘ প্রবাসজীবন: টানা ১৫ বছর প্রবাসে হাড়ভাঙা খাটুনি খেটেছেন তিনি।
- অপূর্ণ স্বপ্ন: আসন্ন ঈদুল ফিতরের এক মাস পর দেশে ফিরে নতুন বাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল তাঁর। কিন্তু গত ৮ মার্চ ইফতারের আগ মুহূর্তে আল খারজ এলাকার শ্রমিক ক্যাম্পে একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন।
- মৃত্যু: শরীরের ৮০ শতাংশ পুড়ে যাওয়ায় রিয়াদে চিকিৎসাধীন অবস্থায় লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় তিনি মারা যান। আজ সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে সৌদি এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে তাঁর কফিন দেশে পৌঁছায়।
২. সরকারি সহায়তা ও মরদেহ প্রত্যাবর্তন
মন্ত্রী জানান, সৌদি আরবে সাম্প্রতিক হামলায় নিহত সাতজন বাংলাদেশির মধ্যে এ পর্যন্ত পাঁচজনের মরদেহ দেশে আনা সম্ভব হয়েছে।
- আর্থিক সাহায্য: নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে সরকারের পক্ষ থেকে ৩ লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।
- মরদেহ পরিবহন: সরকারের পক্ষ থেকে বাকি দুইজনের মরদেহও দ্রুত দেশে আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
৩. মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে বড় ঘোষণা
মরদেহ হস্তান্তরের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন:
- বাজার খোলার চেষ্টা: সরকার মালয়েশিয়ার বন্ধ থাকা শ্রমবাজার পুনরায় চালু করার জন্য কূটনৈতিক পর্যায়ে জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।
- সিন্ডিকেট নির্মূল: অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার শ্রমবাজারকে সম্পূর্ণ সিন্ডিকেটমুক্ত রাখার কঠোর ঘোষণা দিয়েছেন মন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, সাধারণ কর্মীদের অভিবাসন ব্যয় কমিয়ে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নিয়োগ নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।
৪. বর্তমান পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা উদ্বেগ
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘাতের কারণে সৌদি আরবের বিভিন্ন অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশি কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্বজনরা। সরকার প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তার বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে বলে আশ্বস্ত করেছে।
আবদুল্লাহ আল মামুনের মতো রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের এই অকাল মৃত্যু দেশের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় আজ গফরগাঁওয়ে জানাজা ও দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।



















