ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের মুলতবি বৈঠকে আবেগঘন ও তাৎপর্যপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। আজ রবিবার (২৯ মার্চ, ২০২৬) বিকেলে ১৩ দিনের বিরতি শেষে সংসদ অধিবেশন পুনরায় শুরু হলে সভাপতির আসনে বসে তিনি এই মন্তব্য করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই সংসদের অনেক সদস্য গুম, জেল-জুলুম এবং এমনকি ফাঁসির মঞ্চ থেকে ফিরে এসে আজ জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে এখানে বসেছেন, যা বিশ্ব সংসদীয় ইতিহাসে এক বিরল ঘটনা।
ডেপুটি স্পিকারের বক্তব্যের প্রধান দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
- সংসদের অনন্য বৈশিষ্ট্য: ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, “এই সংসদে কেউ এসেছি ফাঁসির মঞ্চ থেকে, কেউ গুম হওয়া থেকে, আবার কেউ দীর্ঘ কারাজীবন কাটিয়ে। এমন বীরত্বপূর্ণ ও মজলুমদের নিয়ে গঠিত সংসদ বিশ্বের বুকে বিরল।” তিনি নিজেকে একজন সাধারণ কৃষক পরিবারের সন্তান হিসেবে পরিচয় দিয়ে এই উচ্চাসনে বসার সুযোগ দেওয়ার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
- শ্রদ্ধা নিবেদন: তিনি স্বাধীনতার ঘোষক ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম) এবং সংসদীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠাতা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে (মাদার অফ ডেমোক্রেসি) গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।
- জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্বীকৃতি: ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের শহীদ আবু সাঈদ, মীর মুগ্ধসহ সকল বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, এই আন্দোলনের ফলেই আজ বাংলাদেশে গণতন্ত্রের দ্বার উন্মুক্ত হয়েছে। জনগণের শক্তিই যে গণতন্ত্রের প্রকৃত ভিত্তি, জুলাই আন্দোলন তা প্রমাণ করেছে।
- সংসদ হবে জাতির দর্পণ: ডেপুটি স্পিকার আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এই সংসদ হবে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটানোর পবিত্র স্থান। নেত্রকোনা-১ (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর) আসনের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি নিরপেক্ষভাবে সংসদ পরিচালনার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
আজকের এই অধিবেশনটি মূলত একটি দীর্ঘ বিরতির পর শুরু হয়েছে এবং এতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ সরকারের নীতি-নির্ধারক পর্যায়ের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। ডেপুটি স্পিকারের এই বক্তব্য সংসদীয় কার্যক্রমে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।



















