ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এবং সাবেক সংসদ সদস্য ফজলে করিম চৌধুরীসহ ৩৩০ জনকে ‘দুষ্কৃতকারী’ হিসেবে চিহ্নিত করে চট্টগ্রাম মহানগরীতে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। শনিবার (১৭ জানুয়ারি, ২০২৬) বিকেলে নগর পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজের স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই নির্দেশ জারি করা হয়। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ অধ্যাদেশ ১৯৭৮-এর ৪০, ৪১ ও ৪৩ ধারার প্রদত্ত ক্ষমতাবলে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত এই ৩৩০ জনের চট্টগ্রাম মহানগর এলাকায় প্রবেশ এবং অবস্থান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
সিএমপির এই তালিকায় জুলাই অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার ওপর সশস্ত্র হামলার মামলার আসামিদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। সাবেক মন্ত্রী-এমপি ছাড়াও তালিকায় রয়েছেন বিতর্কিত সাবেক চসিক কাউন্সিলর শৈবাল দাশ সুমন, হিরন, এসরার, মামুন, বাবুসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলররা। এ ছাড়া ছাত্র হত্যা মামলার আসামি ও নগর ছাত্রলীগের সাবেক নেতা নুরুল আজিম রনি, সাবেক সভাপতি ইমুসহ শীর্ষ সন্ত্রাসী ছোট সাজ্জাদ, শহিদুল ইসলাম বুইশ্যা ও টেম্পুর মতো চিহ্নিত অপরাধীদের নামও এই নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, জুলাই বিপ্লবের সময় যারা রাজপথে অস্ত্র হাতে সাধারণ মানুষের ওপর চড়াও হয়েছিল, তাদের অবস্থান নিশ্চিত করতেই এই কঠোর ব্যবস্থা।
গণবিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই আদেশ অমান্য করে কেউ যদি চট্টগ্রাম মহানগরী এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করে বা অবস্থান করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নগরীর প্রবেশপথগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে বিশেষ অভিযান শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এমন কঠোর পদক্ষেপকে সাধারণ ছাত্র-জনতা স্বাগত জানালেও, পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।


















