জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনি জোট থেকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণার পর উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেছে জামায়াতের শীর্ষ ফোরাম। আজ শনিবার (১৭ জানুয়ারি, ২০২৬) দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানান, ইসলামী আন্দোলন জোট ছেড়ে যাওয়ার ঘোষণা দিলেও ১০ দল এখনো তাদের জন্য শেষ সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মূলত ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে দূরত্ব ঘোচাতেই এই নমনীয় অবস্থান বজায় রাখছে জোটের বাকি শরিকরা।
এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ১১ দলীয় সমঝোতায় যে ২৫৩টি আসন ঘোষণা করা হয়েছিল, সেখানে ইসলামী আন্দোলনের জন্য প্রস্তাবিত আসনগুলো এখনো ফাঁকা রাখা হয়েছে। জোটের লিঁয়াজো কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময় পর্যন্ত চরমোনাই পীরের দলের জন্য অপেক্ষা করা হবে। তবে যদি শেষ পর্যন্ত তারা জোটের ছায়াতলে না ফেরে, তবে ফাঁকা রাখা ওই ৪৭টি আসনে ১০ দলের মধ্য থেকেই যোগ্য প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে। এই আসন বণ্টনের দায়িত্ব পালন করবে জোটের প্রতিনিধি নিয়ে গঠিত বিশেষ লিঁয়াজো কমিটি। জামায়াতের এই নেতা আরও স্পষ্ট করেন যে, ইসলামী আন্দোলনের আনা ‘আদর্শিক বিচ্যুতি’র অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং জামায়াত জোটবদ্ধভাবে নির্বাচনের মাধ্যমেই সংস্কারপন্থী শক্তিকে বিজয়ী করতে চায়।
উল্লেখ্য, গতকাল শুক্রবার ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এককভাবে ২৬৮টি আসনে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়ে জোট ত্যাগের ইঙ্গিত দিয়েছিল। তাদের অভিযোগ ছিল, আসন ভাগাভাগি এবং ‘ওয়ান বক্স পলিসি’ নিয়ে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। তবে আজকের বৈঠকে জামায়াতসহ বাকি ১০ দল নিজেদের মধ্যে ঐক্য অটুট রাখার অঙ্গীকার করেছে। জামায়াতের কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, ইসলামী আন্দোলন ফিরে না এলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ৪৭টি আসনের নতুন তালিকা প্রকাশ করা হতে পারে।



















