আজ শনিবার (১১ এপ্রিল, ২০২৬) পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে শুরু হতে যাচ্ছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বহুল প্রতীক্ষিত শান্তি আলোচনা। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা নিরসনে এই উচ্চপর্যায়ের সংলাপকে ঘিরে বর্তমানে সারাবিশ্বের নজর এখন পাকিস্তানের দিকে।
বৈঠকের প্রস্তুতি ও ইসলামাবাদের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিচে তুলে ধরা হলো:
১. ‘রেড জোন’ ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বেষ্টনী
ইসলামাবাদে নিরাপত্তা এমন এক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে যেটিকে বিশ্লেষকরা নজিরবিহীন বলছেন:
- চলাচল নিষিদ্ধ: ইসলামাবাদের সরকারি ভবন ও বিভিন্ন দূতাবাস সমৃদ্ধ ‘রেড জোন’ এলাকাটি এখন সব ধরনের সাধারণ মানুষ ও যান চলাচলের জন্য পুরোপুরি সিল করে দেওয়া হয়েছে।
- সাংবাদিকদের অবস্থান: গতকাল বিকেল পর্যন্ত সংবাদকর্মীদের প্রবেশের সুযোগ থাকলেও এখন তাদের রেড জোনের বাইরে অবস্থান করতে হচ্ছে। দেশি-বিদেশি অসংখ্য সাংবাদিক সেখানে ক্যামেরায় শেষ মুহূর্তের খবরের জন্য অপেক্ষায় রয়েছেন।
- নিরাপত্তা বাহিনী: শহরজুড়ে প্রায় ১০ হাজার অতিরিক্ত নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বিশেষ করে পাকিস্তানের স্পেশাল সার্ভিস ইউনিট এবং এলিট কমান্ডোরা ইরানি প্রতিনিধিদলের নিরাপত্তায় নিয়োজিত রয়েছেন।
২. ইরানি প্রতিনিধিদলের আগমন
আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, ইরানি প্রতিনিধিদলকে পাকিস্তানে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে:
- নেতৃত্ব: তেহরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।
- অভ্যর্থনা: পাকিস্তানি আকাশসীমায় ইরানি বিমান প্রবেশের পর থেকেই পূর্ণ সামরিক প্রটোকল দেওয়া হয়। বিমানবন্দরে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান সশরীরে উপস্থিত থেকে প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানান।
৩. পাকিস্তানের বিশেষ পদক্ষেপ
বৈঠকটি নির্বিঘ্ন করতে পাকিস্তান সরকার বিশেষ কিছু ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে:
- সাধারণ ছুটি: নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়াতে এবং যানজটমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে ইসলামাবাদে দুই দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
- কূটনৈতিক মধ্যস্থতা: ওমান ও কাতারের পর পাকিস্তান এখন এই দুই দেশের মধ্যে প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
৪. আলোচনার মূল চ্যালেঞ্জসমূহ
যদিও আলোচনার পরিবেশ নিশ্ছিদ্র রাখা হয়েছে, তবে কিছু বিষয় এই সংলাপকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে:
- লেবানন ইস্যু: ইরান ইতিমধ্যে জানিয়েছে যে লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধ না হলে তারা আলোচনায় অংশ নেবে না।
- চীনের সমরাস্ত্র: সম্প্রতি সিএনএন-এর প্রতিবেদনে ইরানে চীনের অস্ত্র পাঠানোর খবর আলোচনার টেবিলে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বড় উদ্বেগের কারণ হতে পারে।
ইসলামাবাদের এই বৈঠকটি যদি সফল হয়, তবে তা বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমানোর পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির পথ প্রশস্ত করবে।



















