প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের পক্ষ থেকে চিকিৎসাধীন বুয়েট শিক্ষার্থী সৈয়দ শাদিদ নাসিফকে দেখতে ঢাকায় আসেন তার দুই বিশেষ সহকারী শেখ মইনুদ্দিন ও ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। শুক্রবার (২৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় তারা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শাদিদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, প্রতিনিধিদল শাদিদের কেবিনে তার বাবা, মা, বোন এবং ঘনিষ্ঠ কয়েকজন আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় আবেগঘন কণ্ঠে শাদিদের মা সন্তানের দ্রুত সুস্থতা কামনা করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের ওপর কোনো ধরনের বল প্রয়োগ না করার নিশ্চয়তা চান।
প্রতিনিধিরা দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এবারই প্রথমবারের মতো ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে একটি ঘটনার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে। তারা পরিবারকে আশ্বস্ত করেন, শাদিদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে এবং প্রয়োজনে বিদেশে চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা হবে।
শাদিদের বাবা, যিনি রংপুরের একটি কলেজের শিক্ষক, এবং তার বোন, যিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেন। এ সময় পরিবারের অপরাপর সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা মেডিকেলের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, শাদিদের অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং বর্তমানে তিনি স্থিতিশীল আছেন। তবে আগামী পাঁচ দিন তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। চিকিৎসক দল জানায়, পরিস্থিতি অনুযায়ী তাকে আইসিইউতে স্থানান্তরের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
প্রতিনিধিদল প্রধান উপদেষ্টা এবং প্রকৌশলীদের চাকরি-সংক্রান্ত অসন্তোষ সমাধানে গঠিত কমিটির প্রধান উপদেষ্টা এম ফাওজুল কবির খানের পক্ষ থেকে সমবেদনা জানান। তারা চিকিৎসক, নার্স এবং সাপোর্ট স্টাফদের আন্তরিক ধন্যবাদও জ্ঞাপন করেন।
পরে তারা শাদিদের সহপাঠী বুয়েটের ২০২০ ব্যাচের কয়েকজন শিক্ষার্থী এবং প্রকৌশল অধিকার আন্দোলনের সংগঠকদের সঙ্গেও কথা বলেন। সহপাঠীরা এ সময় প্রকৌশলীদের দাবির যৌক্তিক সমাধান এবং শান্তিপূর্ণ সমঝোতার ওপর জোর দেন।



















