বিগত শেখ হাসিনা সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ ফুটবলের সম্প্রচারস্বত্ব কেনা ও সামগ্রিক সম্প্রচার প্রক্রিয়ায় প্রায় ১৪০ কোটি টাকার এক বিশাল আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) মাধ্যমে সংঘটিত হওয়া এই অনিয়মের বিষয়ে বর্তমানে একটি উচ্চপর্যায়ের বিভাগীয় তদন্ত চলছে এবং আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তা দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) পাঠানো হবে। আজ রবিবার (১৯ জুলাই, ২০২৬) সচিবালয়ে চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলের সফল সম্প্রচার ও সার্বিক বিষয় নিয়ে আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে তথ্যমন্ত্রী এসব তথ্য প্রকাশ করেন। সংবাদ সম্মেলনে তথ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান এবং বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) নবনির্বাচিত সভাপতি তাবিথ আউয়াল উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন দুর্নীতির খতিয়ান তুলে ধরে বলেন, ২০২২ সালে সরাসরি ফিফার কাছ থেকে ৩ দশমিক ২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে বিশ্বকাপের সম্প্রচারস্বত্ব কেনা হলেও অনৈতিক মধ্যস্বত্বভোগীদের সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রায় ১৪০ কোটি টাকার দুর্নীতি করা হয়েছে। তাঁর ভাষ্যমতে, বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফাকে নিয়ম অনুযায়ী পুরো অর্থ পরিশোধ করার পরও অতিরিক্ত অবৈধ অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে তৎকালীন সময়ে এই সুনির্দিষ্ট অনিয়মটি সংঘটিত করা হয়েছিল। সাবেক সরকারের আমলের এই বিশাল অপচয় ও অনিয়মের সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছিলেন যে, বিশ্বকাপ ফুটবল সম্প্রচারে জনগণের বা রাষ্ট্রীয় তহবিলের কোনো অর্থ অপচয় বা ব্যয় করা যাবে না। প্রধানমন্ত্রীর সেই দূরদর্শী নির্দেশনা শতভাগ অনুসরণ করে ২০২৬ বিশ্বকাপের সম্প্রচারস্বত্ব ৩ দশমিক ৮৫ মিলিয়ন ডলারে কেনা হয়েছে এবং সরকারি কোষাগারের ওপর চাপ না বাড়িয়ে দেশের চারটি বেসরকারি ও রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের যৌথ সমন্বয়ে সফলভাবে খেলা সম্প্রচার করা সম্ভব হয়েছে।
তথ্যমন্ত্রী অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে দাবি করেন, এবারের পুরো মেগা আয়োজন শেষ হওয়ার পর হিসাব কষে দেখা গেছে ৩ থেকে ৪ কোটি টাকার মতো একটি সামান্য আর্থিক ঘাটতি থাকতে পারে, যা বিভিন্ন কর্পোরেট বিজ্ঞাপন থেকে অর্জিত আয়ের মাধ্যমেই অনায়াসে পূরণ হয়ে যাবে। এর ফলে এবারের বিশ্বকাপ সম্প্রচারে সরকারি তহবিল থেকে সাধারণ জনগণের কোনো অর্থই অনর্থক ব্যয় করতে হয়নি। অন্যদিকে, বিটিভির মাধ্যমে হওয়া সাবেক সরকারের সময়ের সেই ১৪০ কোটি টাকার দুর্নীতির মামলার বিষয়ে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, তদন্ত প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে এবং এ বিষয়ে আইন সম্পূর্ণ নিজস্ব গতিতেই চলবে; কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।


















