মঙ্গলবার , ৭ জুলাই ২০২৬ |
  1. অপরাধ
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. এভিয়েশন
  6. কৃষি
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলাধুলা
  9. ছবি
  10. জনদুর্ভোগ
  11. জনপ্রিয়
  12. জাতীয়
  13. ডেঙ্গু
  14. দুর্ঘটনা
  15. ধর্ম

চট্টগ্রামে ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড ৩৩০.৮ মিমি বৃষ্টি

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
জুলাই ৭, ২০২৬ ১১:২২ পূর্বাহ্ণ

Spread the love

টানা ভারী বর্ষণ ও সাগরের জোয়ারের দ্বিমুখী প্রঘাতে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গিয়ে এক ভয়াবহ ও নজিরবিহীন জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। চট্টগ্রাম পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল ৯টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় নগরীতে রেকর্ড ৩৩০ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত মাত্র তিন ঘণ্টায় ৬০ মিলিমিটার মুষলধারে বৃষ্টি হয়েছে। সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত বহাল থাকায় এবং একই সময়ে কর্ণফুলী নদীতে জোয়ার শুরু হওয়ায় বৃষ্টির পানি দ্রুত নামতে পারেনি, যা জলাবদ্ধতাকে আরও বেশি প্রকট করে তুলেছে। এদিকে, এই অব্যাহত ও অতি ভারী বৃষ্টির কারণে চট্টগ্রামের পাহাড়ঘেঁষা এলাকাগুলোতে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে গেছে, যেখানে বর্তমানে প্রায় সাড়ে সাত হাজার পরিবার অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বসবাস করছে।

কোমরসমান পানিতে তলিয়ে গেছে নগরী, স্থবির জনজীবন

সকালের এই তীব্র ভারী বৃষ্টির পর আগ্রাবাদ, চকবাজার, বাকলিয়া, কাজীরহাট, হালিশহর, চান্দগাঁও, সুন্নিয়া মাদ্রাসা রোড, আকমল আলী রোড, পতেঙ্গা ও কুয়াইশসহ নগরীর বিভিন্ন প্রধান সড়ক ও অলিগলিতে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে যায়। এর ফলে যানবাহন চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয় এবং গণপরিবহন ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার তীব্র সংকট তৈরি হয়। সকালে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে অনেক কর্মজীবী মানুষ জুতা হাতে নিয়ে এবং প্যান্ট গুটিয়ে হেঁটে রওনা হতে বাধ্য হন।

অতিরিক্ত বৃষ্টির পানি অনেক বাসাবাড়ি, নিচতলা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ঢুকে পড়ায় আসবাবপত্র ও দোকানপাটের মালামালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। চকবাজারের অলিগলিতে পানি জমে স্বাভাবিক চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে এবং এখানকার ব্যবসায়ীরা ব্যাপক আর্থিক লোকসানের মুখে পড়েছেন। আগ্রাবাদ ও বাকলিয়ার ভুক্তভোগী বাসিন্দাদের অভিযোগ, বছরের পর বছর কোটি কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করার পরও বর্ষা এলেই নগরবাসীকে একই দুর্ভোগের মুখোমুখি হতে হচ্ছে, অথচ জলাবদ্ধতার কোনো স্থায়ী সমাধান মিলছে না।

সাড়ে সাত হাজার পরিবার ঝুঁকিতে, লালখান বাজার ও আকবরশাহে আশ্রয়কেন্দ্র

পাহাড়ধসের এই চরম ঝুঁকি মোকাবিলায় জেলা ও সিটি প্রশাসন অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিতে থাকা এলাকাগুলোর তালিকা এবং প্রশাসনের বর্তমান পদক্ষেপসমূহ নিচে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:

  • ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকা: মতিঝরনা, আকবরশাহ, ১ নম্বর ঝিল, ২ নম্বর ঝিল, বিজয়নগর, জিয়ানগর, বেলতলীঘোনা, খুলশী, বায়েজিদ ও সলিমপুরসহ বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকা বর্তমানে ধসের তীব্র ঝুঁকিতে রয়েছে।
  • মাইকিং ও সতর্কবার্তা: ঝুঁকি বিবেচনায় প্রশাসন ও স্থানীয় পুলিশের পক্ষ থেকে এসব এলাকায় অনতিবিলম্বে বাসিন্দাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে অনবরত মাইকিং করা হচ্ছে। তবে এখনও অনেক পরিবার নিজেদের ভিটেমাটি ছেড়ে যেতে অনীহা প্রকাশ করছে।
  • অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র: পাহাড়ধসের আশঙ্কায় লালখান বাজার ও আকবরশাহ এলাকার দুটি বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জরুরি ভিত্তিতে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে।

চসিকের পানি নিষ্কাশন ও জেলা প্রশাসনের জরুরি প্রস্তুতি

নগরীর এই চরম বিপর্যয়কর পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং জলাবদ্ধতা দ্রুত নিরসনে জরুরি উদ্ধার ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। চসিকের পরিচ্ছন্নতা ও প্রকৌশল বিভাগের একাধিক বিশেষ দল বিভিন্ন প্লাবিত এলাকায় ভাগ হয়ে ড্রেন, কালভার্ট, খাল এবং জলাবদ্ধতাপ্রবণ স্থানে জমে থাকা প্লাস্টিক ও আবর্জনা দ্রুত অপসারণ এবং পানি নিষ্কাশনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং যেকোনো বড় ধরণের প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফায়ার সার্ভিস, রেড ক্রিসেন্ট ও স্বেচ্ছাসেবকসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

সর্বশেষ - অপরাধ

আপনার জন্য নির্বাচিত