আজ মঙ্গলবার (২৪ মার্চ, ২০২৬) দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে ‘ঢাকা শহরের যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন’ বিষয়ক একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি-নির্ধারণী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী রাজধানী ঢাকার দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যা সমাধানে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী বেশ কিছু যুগান্তকারী নির্দেশনা দিয়েছেন।
বৈঠকে গৃহীত প্রধান সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনাগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
- সিগন্যাল অটোমেশন: ঢাকার ১২০টি ট্রাফিক সিগন্যাল দেশীয় পদ্ধতিতে সম্পূর্ণ অটোমেশনের আওতায় আনা হবে।
- টার্মিনাল স্থানান্তর: মহানগরের ভেতরে থাকা ৫টি আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল দ্রুত শহরের বাইরে সরিয়ে নেওয়া হবে। তবে এই টার্মিনালগুলো পরবর্তীতে কেবল ‘সিটি সার্ভিসের’ জন্য ব্যবহৃত হবে।
- দখলমুক্ত ফুটপাত: ফুটপাত ও রাস্তা থেকে অবৈধ দোকানপাট, শোরুম ও রেস্টুরেন্টের বর্ধিতাংশ দ্রুত অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
- রেল ক্রসিং আধুনিকায়ন: ঢাকার রেল ক্রসিংগুলোতে ম্যানুয়াল পদ্ধতির বদলে অটো সিগন্যাল লাইটিং সিস্টেম চালু করা হবে।
- অবকাঠামো উন্নয়ন: শহরের চারপাশে নতুন বাইপাস সড়ক এবং গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ওভারপাস ও আন্ডারপাস নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
- চলন্ত সিঁড়ি ও লিফট: অধিকাংশ ফুটওভার ব্রিজে চলন্ত সিঁড়ি এবং হাসপাতাল এলাকার ফুটওভার ব্রিজগুলোতে দেশীয় প্রযুক্তির লিফট স্থাপন করা হবে।
- জিপিএস ট্র্যাকিং: সকল সিটি বাসকে জিপিএস সিস্টেমের আওতায় আনা হবে যাতে যাত্রীরা বাসের অবস্থান জানতে পারেন।
- বিদ্যুতের খুঁটি অপসারণ: রাস্তার মাঝখানে থাকা বিপজ্জনক বিদ্যুতের খুঁটিগুলো দ্রুত সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বৈঠক শেষে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, এই স্বল্পমেয়াদী পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে আগামী এপ্রিল মাসের শেষ নাগাদ ঢাকা শহরের যানজট অনেকাংশে কমে আসবে। আগামী ৭ এপ্রিলের মধ্যে প্রস্তাবিত অনেকগুলো কাজ শুরুর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।



















