সোমবার , ২২ জুন ২০২৬ | ৯ই আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  1. অপরাধ
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. এভিয়েশন
  6. কৃষি
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলাধুলা
  9. ছবি
  10. জনদুর্ভোগ
  11. জনপ্রিয়
  12. জাতীয়
  13. ডেঙ্গু
  14. দুর্ঘটনা
  15. ধর্ম

ব্রাজিলের খেলোয়াড়কে ঘুমের ওষুধ খাইয়েছিল আর্জেন্টাইনরা

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
জুন ২২, ২০২৬ ৮:৩৭ পূর্বাহ্ণ

Spread the love

আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের ফুটবল ম্যাচ মানেই ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে টানটান উত্তেজনা আর বাড়তি উন্মাদনা. তবে এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর মাঠের লড়াইয়ে যদি কোনো বিতর্কের ছোঁয়া থাকে, তবে তা নিয়ে সমর্থকদের আলোচনা যেন রূপ নেয় চিরন্তন তর্কে. ফুটবল ইতিহাসের পাতায় দু’দলের মধ্যকার সবচেয়ে বড় ও কুখ্যাত বিতর্কের জন্ম হয়েছিল ১৯৯০ সালের ইতালি বিশ্বকাপে. সেবার ব্রাজিলের এক ফুটবলারকে ঘুমের ওষুধ মিশ্রিত পানি খাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল আর্জেন্টিনার ফিজিওর বিরুদ্ধে, যা বিশ্ব ফুটবলে ‘হলি ওয়াটার’ স্ক্যান্ডাল বা ‘পবিত্র পানি’ কেলেঙ্কারি নামে পরিচিতি পায়.

ফেভারিট ব্রাজিল বনাম নড়বড়ে আর্জেন্টিনা

১৯৯০ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর (রাউন্ড অব সিক্সটিন) হাইভোল্টেজ ম্যাচকে কেন্দ্র করে এই ঐতিহাসিক ঘটনার সূত্রপাত. তখনকার সময়েও দু’দলের ম্যাচ ঘিরে পারদ ছিল তুঙ্গে. এর আগে বিশ্বকাপের মঞ্চে তিনবারের দেখায় ১৯৭৪ ও ১৯৮২ সালে জিতেছিল ব্রাজিল এবং ১৯৭৮ সালের ম্যাচটি ড্র হয়েছিল. ফলে বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সেলেসাওদের হারানোর মোক্ষম সুযোগ ছিল আলবিসেলেস্তেদের সামনে.

তবে সেই আসরে আর্জেন্টিনার দলগত অবস্থা মোটেও স্বস্তিদায়ক ছিল না. ডিয়েগো ম্যারাডোনার জাদুতে ১৯৮৬ বিশ্বকাপ জিতলেও, ইনজুরি আর অফ-ফর্মের কারণে ১৯৯০-এর স্কোয়াডে অনেক তারকারই ঘাটতি ছিল. গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচেই ক্যামেরুনের কাছে ১-০ গোলে হেরে বসে তারা. এরপর সোভিয়েত ইউনিয়নকে ২-০ গোলে হারালেও রোমানিয়ার সাথে ১-১ গোলে ড্র করে গ্রুপে তৃতীয় হয়ে কোনোমতে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা. অন্যদিকে সেবাস্তিও ল্যাজারনির অধীনে ব্রাজিল ছিল টুর্নামেন্টের অন্যতম হট ফেভারিট. গ্রুপ পর্বের সব ম্যাচ জিতে দাপটের সাথে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েই তারা শেষ ষোলোতে পা রাখে. ফলে মহারণের আগে কাগজের কলমে ব্রাজিলই এগিয়ে ছিল.

মাঠের দাপট ও ব্রাংকোর রহস্যময় অসুস্থতা

১০ জুন তুরিনে অনুষ্ঠিত ম্যাচে অনুমেয়ভাবেই শুরু থেকে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে ব্রাজিল. মাঠের মিডফিল্ডে দুঙ্গা ও অ্যালেমাওর দাপটের কারণে বলের নিয়ন্ত্রণই পাচ্ছিল না নড়বড়ে আর্জেন্টিনা. আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগকে একাই ব্যস্ত রাখছিলেন ব্রাজিলের অসাধারণ লেফটব্যাক ব্রাংকো, এমনকি ম্যারাডোনাও তাঁর কড়া পাহারা এড়াতে পারছিলেন না.

খেলার দ্বিতীয়ার্ধে ঘটে এক টার্নিং পয়েন্ট. আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার পেদ্রো ত্রগলিও চোট পাওয়ায় কিছুক্ষণের জন্য খেলা বন্ধ থাকে. কিন্তু খেলা পুনরায় শুরু হওয়ার পর থেকেই মাঠে ব্রাংকোর চনমনে ভাব হুট করে উধাও হয়ে যায়. তাঁকে দেখে স্পষ্ট মনে হচ্ছিল তিনি অসুস্থ বোধ করছেন এবং মাথা ঝিমঝিম করার কারণে খেই হারিয়ে ফেলছেন.

ব্রাংকোর এই আকস্মিক দুর্বলতার সুযোগ নিতে ভুল করেননি ম্যারাডোনা. ম্যাচের ৮১ মিনিটে তিনি ব্রাংকোকে অনায়াসে ফাঁকি দিয়ে ডানপ্রান্ত দিয়ে বল নিয়ে চিতা বাঘের গতিতে এগিয়ে যান. ব্রাজিলের জমাট ডিফেন্স ভেঙে পড়লে ম্যারাডোনাকে আটকাতে ডিফেন্ডাররা তাঁকে ছেঁকে ধরেন. এই সুযোগে আনমার্কড থাকা আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড ক্লদিও ক্যানিজিয়ার দিকে নিখুঁত পাস বাড়িয়ে দেন ম্যারাডোনা. ব্রাজিলের গোলরক্ষক তাফারেলকে পরাস্ত করে বল জালে জড়াতে কোনো ভুল করেননি ক্যানিজিয়া. পুরো ম্যাচে দাপট দেখিয়েও ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে ব্রাজিল. গোলের পর থেকেই ব্রাংকোকে তীব্র উত্তেজিত অবস্থায় সতীর্থদের কিছু একটা বোঝানোর চেষ্টা করতে দেখা যায়. শেষ মুহূর্তে ৮৫ মিনিটে মেজাজ হারিয়ে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন ব্রাজিলের অধিনায়ক রিকার্ডো গোমেজ. ম্যাচটি ১-০ গোলে জিতে আর্জেন্টিনা কোয়ার্টার ফাইনালে চলে যায় এবং ব্রাজিলের বিদায় ঘণ্টা বাজে.

ম্যাচ পরবর্তী অভিযোগ ও ১৫ বছর পর ম্যারাডোনার বোমা ফাটানো

আসল নাটকের শুরু হয় ম্যাচ শেষ হওয়ার পর. মাঠ থেকে বের হয়ে ব্রাংকো দাবি করেন, দ্বিতীয়ার্ধে খেলা বন্ধ থাকার সময় তিনি আর্জেন্টিনার ফিজিও মিগুয়েল ডি লরেঞ্জোর কাছ থেকে এক বোতল পানি নিয়ে পান করেছিলেন. আর সেই পানি পানের পর থেকেই তিনি প্রচণ্ড অসুস্থতা ও মাথা ঘোরানোর সমস্যায় পড়েন. ব্রাংকো যে প্রতিপক্ষের ফিজিওর পানি পান করেছিলেন তার ভিডিও প্রমাণ থাকলেও, তাৎক্ষণিকভাবে পানিতে কিছু মেশানোর অভিযোগটি প্রমাণ করার কোনো সুযোগ ছিল না. উপরন্তু আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম ও ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন দাবি করে তীব্র প্রতিবাদ জানালে বিষয়টি ধামাচাপা পড়ে যায়.

তবে এই ঘটনার দীর্ঘ ১৫ বছর পর, ২০০৫ সালে খোদ ডিয়েগো ম্যারাডোনা এই রহস্যের জট খুলে বিশ্ব ফুটবলে এক বিশাল বোমা ফাটান. আর্জেন্টিনার একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ম্যারাডোনা হাসতে হাসতে স্বীকার করেন যে, সেদিন সত্যিই ব্রাংকোকে দেওয়া পানির বোতলে তারা ট্রাঙ্কুলাইজার বা ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দিয়েছিলেন!

ম্যারাডোনার এই বিস্ফোরক স্বীকারোক্তির পর ল্যাটিন ফুটবলের পুরনো ক্ষোভ আবার দাউদাউ করে জ্বলে ওঠে. তৎকালীন ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (সিবিএফ) সেক্রেটারি জেনারেল অ্যান্টোনিও টেক্সেইরা ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করতে চাইলেও, সিবিএফ প্রেসিডেন্ট রিকার্ডো টেক্সেইরা রহস্যজনকভাবে তা না করার সিদ্ধান্ত নেন, যার ফলে বিষয়টি আইনিভাবে আর বেশিদূর এগোয়নি.

সংশ্লিষ্টদের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য

ম্যারাডোনা সত্য স্বীকার করলেও ১৯৯০ সালের সেই ম্যাচের আর্জেন্টাইন কোচ কার্লোস বিলার্দো এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন এবং ম্যারাডোনাকে ‘বাস্তবে ফেরার’ পরামর্শ দেন. অভিযুক্ত ফিজিও মিগুয়েল ডি লরেঞ্জোও এই ঘটনাকে সাজানো বলে উড়িয়ে দেন.

তবে ফিজিওর এই অস্বীকারের কড়া সমালোচনা করেন ১৯৯০ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের অন্যতম ফরোয়ার্ড বেবেতো. বেবেতো ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘লরেঞ্জো যদি এ ঘটনা অস্বীকার করে থাকেন তবে তিনি মিথ্যা বলেছেন, কারণ লরেঞ্জো পরবর্তীতে আমার কাছে ব্যক্তিগতভাবে সমস্ত ঘটনা স্বীকার করেছিলেন.’

অন্যদিকে তৎকালীন ব্রাজিলের কোচ এই ঘটনাকে স্পোর্টসম্যানশিপের পরিপন্থী এবং সম্পূর্ণ ‘নোংরা খেলা’ হিসেবে অভিহিত করে বলেছিলেন, ঘটনা যত বছরের পুরোনোই হোক না কেন, ফিফার উচিত এর সাথে জড়িতদের কঠিন শাস্তির আওতায় এনে একটি উদাহরণ তৈরি করা, কারণ কে গ্যারান্টি দেবে যে আর্জেন্টিনা অন্য কোনো দলের সাথেও এমন নোংরা রূপ নেয়নি?

সর্বশেষ - অপরাধ

আপনার জন্য নির্বাচিত

ফ্রান্সে প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে বাংলাদেশী ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান

ঘন কুয়াশায় সারাদেশে নৌযান চলাচল বন্ধ

ছয় দফা দাবিতে পলিটেকনিক শিক্ষার্থীদের আন্দোলন: শিক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে ১৬ সদস্যের প্রতিনিধি দল

লিখিত পরীক্ষা বর্জন করছে ৪৭তম বিসিএস পরীক্ষার্থীরা

আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান আসবে

কুমিল্লায় ট্রেন-বাস সংঘর্ষ: চট্টগ্রামের সঙ্গে রেল যোগাযোগ বন্ধ

গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে সারাদেশে বিএনপি’র দোয়া ও মৌন মিছিল

ধর্ম-বর্ণভেদে নয়, বাংলাদেশ সব মানুষের নিরাপদ-শান্তিপূর্ণ আবাসভূমি

এফডিসি–কারওয়ান বাজার সড়ক জুড়ে অবৈধ বাসস্ট্যান্ড, তীব্র যানজট

ঘন কুয়াশার কারণে ঢাকার আন্তর্জাতিক ৫ ফ্লাইট কলকাতায়