সোমবার , ১৮ মে ২০২৬ | ৪ঠা আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  1. অপরাধ
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. এভিয়েশন
  6. কৃষি
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলাধুলা
  9. ছবি
  10. জনদুর্ভোগ
  11. জনপ্রিয়
  12. জাতীয়
  13. ডেঙ্গু
  14. দুর্ঘটনা
  15. ধর্ম

সিলেটে বর্ডার ক্রস গরুর অনুপ্রবেশে খামারিদের কপালে চিন্তার ভাঁজ

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
মে ১৮, ২০২৬ ২:৫৮ পূর্বাহ্ণ

Spread the love

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সিলেট বিভাগে কোরবানির পশুর কোনো সংকট নেই; বরং চাহিদার চেয়ে প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে। তবে শতভাগ দেশীয় পশু দিয়ে চাহিদা মেটানোর পূর্ণ প্রস্তুতি থাকলেও স্থানীয় খামারিদের মাঝে তীব্র শঙ্কা দেখা দিয়েছে ভারত থেকে চোরাইপথে আসা ‘বর্ডার ক্রস’ গরু নিয়ে। ঈদের সময় যতই ঘনিয়ে আসছে, সিলেটের বিভিন্ন দুর্গম সীমান্ত দিয়ে চোরাকারবারিরা অবৈধভাবে ভারতীয় গরু আনা ততই বাড়িয়ে দিয়েছে। এই অবৈধ অনুপ্রবেশ অব্যাহত থাকলে বছরজুড়ে লালন-পালন করা দেশীয় গরুর ন্যায্যমূল্য পাওয়া যাবে না বলে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন খামারিরা। আর প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, খামারিরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হলে ভবিষ্যতে দেশীয় গবাদিপশু উৎপাদনে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

সিলেট বিভাগের কোরবানির পশুর পরিসংখ্যান: সিলেট বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর পুরো বিভাগে গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া মিলিয়ে মোট পশুর চাহিদা ২ লাখ ৭২ dust ১৭৪টি। এর বিপরীতে চার জেলায় খামারিরা কোরবানির জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত করেছেন ২ লাখ ৮৫ হাজার ৮৬৪টি পশু। অর্থাৎ, চাহিদার চেয়ে মোট ১৩ হাজার ৬৯০টি পশু বেশি রয়েছে। জেলাওয়ারি হিসাব নিচে দেওয়া হলো:

  • সিলেট জেলা: প্রস্তুত ১ লাখ ৭ হাজার ৯৬৫টি; চাহিদা ১ লাখ ৩ হাজার ৯৩৮টি (উদ্বৃত্ত ৪ হাজার ২৭টি)।
  • মৌলভীবাজার জেলা: প্রস্তুত ৭৪ হাজার ৫৮৪টি; চাহিদা ৭১ toughness ৭৭২টি (উদ্বৃত্ত ২ লাখ ৮১২টি)।
  • হবিগঞ্জ জেলা: প্রস্তুত ৫০ হাজার ৮০২টি; চাহিদা ৪৬ হাজার ৫০টি (উদ্বৃত্ত ৪ হাজার ৭৫২টি)।
  • সুনামগঞ্জ জেলা: প্রস্তুত ৫২ হাজার ৫১৩টি; চাহিদা ৫০ হাজার ৪১৪টি (উদ্বৃত্ত ২ লাখ ৯৯টি)।

সীমান্তের চোরাচালান ও খামারিদের শঙ্কা: খামারিদের অভিযোগ, ঈদুল আজহাকে টার্গেট করে প্রতিদিন সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ, জৈন্তাপুর ও কানাইঘাটের বিভিন্ন দুর্গম সীমান্ত গলিয়ে অবৈধভাবে ভারতীয় গরু দেশের ভেতরে ঢুকছে। পরবর্তীতে এসব চোরাই গরু রাতের আঁধারে ট্রাক ও পিকআপে করে শহরের প্রধান প্রধান পশুর হাটগুলোতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সিলেট শহরতলির দলইপাড়ার সুরমা এগ্রোর ব্যবস্থাপক জামাল আহমদ জানান, তাঁর খামারে বিক্রির জন্য ১৫টি বড় গরু প্রস্তুত করা হয়েছে। কিন্তু বর্ডার ক্রস গরুর কারণে বাজার পড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় এখন তিনি আসল টাকা তোলা নিয়েই সন্দিহান।

সিলেট বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পরিচালক ড. আবু জাফর মো. ফেরদৌস এই সংকটের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বিভাগে পশুর কোনো ঘাটতি নেই। তবে সীমান্ত দিয়ে এভাবে অবৈধ উপায়ে ভারতীয় গরু আসতে থাকলে স্থানীয় খামারিরা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হবেন, যা তাঁদের গবাদিপশু লালন-পালনে স্থায়ীভাবে নিরুৎসাহিত করে তুলবে। সীমান্ত এলাকায় নজরদারি আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

সর্বশেষ - অপরাধ