আগামী বছরের জানুয়ারিতে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে সংবিধান সংশোধনের বিল উত্থাপন হতে পারে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সভাপতি সালাউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, ডিসেম্বরের মধ্যে কমিটির প্রতিবেদন সংসদে উপস্থাপনের চেষ্টা চলছে। এরপর ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আইন মন্ত্রণালয় থেকে সংবিধান সংশোধনের বিল আনার কথা রয়েছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে বিশেষ কমিটির তৃতীয় সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এসব কথা বলেন তিনি। এদিন জাতীয় দৈনিকের সম্পাদক, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করে কমিটি।
সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, সাংবাদিকদের কাছ থেকে সংবিধানের প্রস্তাবনা, বিভিন্ন অনুচ্ছেদ, তফসিল এবং ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়ন নিয়ে মতামত ও প্রস্তাব পাওয়া গেছে। অনেকে লিখিত প্রস্তাবও দেবেন। এসব মতামত ও আলোচনা নিয়ে প্রতিবেদন ও পুস্তিকা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে।
গণভোটের প্রয়োজন হতে পারে যেসব পরিবর্তনে
সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে কিছু নির্দিষ্ট বিধান পরিবর্তন করা হলে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী গণভোটের প্রয়োজন হতে পারে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সংসদে সংশোধনী বিল পাসের পর রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের আগে যেসব ক্ষেত্রে গণভোটের বিধান প্রযোজ্য, সেসব বিষয়ে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। জনগণ সংশোধনের পক্ষে ভোট দিলে এরপর রাষ্ট্রপতি স্বাক্ষর করবেন।
প্রস্তাবিত পরিবর্তনের বিষয়ে সালাউদ্দিন আহমদ প্রস্তাবনা এবং ৮, ৪৮, ৫৬ ও ১৪২ অনুচ্ছেদের কথা উল্লেখ করেন। তবে ঠিক কোন কোন অনুচ্ছেদে পরিবর্তন আনা হবে, তা কমিটির আলোচনা ও পরবর্তী সংসদীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে বলে তিনি জানান।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সুরক্ষার ক্ষেত্রেও গণভোটের বিধান যুক্ত করার একটি প্রস্তাব এসেছে বলে জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য, ভবিষ্যতে কোনো সংসদ যাতে সহজে এ ব্যবস্থা বাতিল করতে না পারে, সে জন্য সংশ্লিষ্ট সাংবিধানিক বিধান সংশোধনের ক্ষেত্রেও গণভোটের প্রয়োজনীয়তা রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
বিরোধীদের অংশগ্রহণের আহ্বান
সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়ায় বিরোধী দলের অংশগ্রহণের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের অনেকেই বিরোধী দলের সদস্যদের আলোচনায় যুক্ত করার পরামর্শ দিয়েছেন। সরকারও এতে একমত।
তিনি বলেন, বিরোধী দলকে এরই মধ্যে একাধিকবার কমিটির আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। তারা অংশ নিলে তাদের মতামত ও প্রস্তাবও বিবেচনায় নেওয়া হবে। সংবিধান সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিভক্তি এড়িয়ে ঐকমত্যের ভিত্তিতে কাজ করার প্রত্যাশা রয়েছে বলে জানান তিনি।
জুলাই সনদ ও নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি
সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ কমিটির প্রধান অগ্রাধিকার। পাশাপাশি নির্বাচনি ইশতেহারে দেওয়া যেসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন হবে, সেগুলোও বিবেচনায় নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, সংবিধানের প্রস্তাবনা ও রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে ‘মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’-সংক্রান্ত বিষয়টি নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে বিবেচনায় রয়েছে।
কমিটির সভাপতি জানান, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত নেওয়ার প্রক্রিয়া শেষে ডিসেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। এরপর সংসদে বিল উত্থাপন, আলোচনা ও সংশোধনী প্রক্রিয়া শেষে বিল পাস হলে যেসব বিধানের ক্ষেত্রে সাংবিধানিক গণভোট প্রয়োজন, সেসব বিষয়ে গণভোট আয়োজন করা হবে।


















