ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় উত্তর মালুক্কা সাগরে অবস্থিত তেরনাতে শহরের উপকূলে একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৭.৪। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল, ২০২৬) ভোরে অনুভূত এই ভূকম্পনে একাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে এবং সমগ্র অঞ্চলে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
ভূমিকম্প ও পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS) এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর দেওয়া তথ্যের মূল অংশগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. ভূমিকম্পের অবস্থান ও গভীরতা
- সময়: স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ভোরবেলা।
- উপকেন্দ্র: তেরনাতে শহর থেকে প্রায় ১২৭ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে।
- গভীরতা: ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার গভীরে এই কম্পনের উৎপত্তি।
২. সুনামি সতর্কতা ও উচ্চঝুঁকি সম্পন্ন অঞ্চল
মার্কিন সুনামি সতর্কতা কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, উপকেন্দ্র থেকে ১ হাজার কিলোমিটার ব্যাসার্ধের দেশগুলোতে সুনামির ঢেউ আছড়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
- সর্বোচ্চ ঝুঁকি: ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন ও মালয়েশিয়ার উপকূলীয় এলাকা।
- ঢেউয়ের উচ্চতা: ইন্দোনেশিয়ার কিছু উপকূলে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়েও ১ মিটার (প্রায় ৩.৩ ফুট) পর্যন্ত উঁচু ঢেউ ওঠার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
৩. অন্যান্য দেশের পরিস্থিতি
জাপান, তাইওয়ান, পাপুয়া নিউগিনি এবং গুয়ামের উপকূলীয় এলাকায় সমুদ্রপৃষ্ঠের সামান্য পরিবর্তনের সম্ভাবনা থাকলেও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে দেশগুলোর আবহাওয়া সংস্থা। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের সমুদ্র উপকূল থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ইন্দোনেশিয়া ‘প্যাসিফিক রিং অব ফায়ার’-এ অবস্থিত হওয়ায় এখানে প্রায়ই ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাতের ঘটনা ঘটে। বর্তমান পরিস্থিতিতে তেরনাতে ও আশপাশের দ্বীপগুলোর বাসিন্দাদের দ্রুত উঁচু স্থানে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।



















