ইউক্রেনের রাশিয়া-নিয়ন্ত্রিত জাপোরিজিয়া অঞ্চলের আজভ সাগরের উপকূলীয় কিরিলিওকা (Kyrylivka) শহরের একটি অবকাশ যাপন কেন্দ্রে (হলিডে ক্যাম্প) গভীর রাতে ড্রোন হামলায় শিশুসহ ১১ জন নিহত এবং ১৬ জন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে রাশিয়া। মস্কোর নিযুক্ত স্থানীয় গভর্নর ইয়েভগেনি বালিতস্কি ইউক্রেনের বিরুদ্ধে সাধারণ বেসামরিক নাগরিকদের ওপর পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানোর অভিযোগ আনেন।
অন্যদিকে, ইউক্রেন সীমান্ত থেকে ১,০০০ থেকে ২,০০০ কিলোমিটার গভীরে রাশিয়ার মূল ভূখণ্ডে এবং কাস্পিয়ান সাগরে একের পর এক সফল ড্রোন হামলা চালানোর কথা নিশ্চিত করেছে কিইভ।
উভয় পক্ষের আক্রমণ ও সামরিক পরিস্থিতির মূল বিবরণ:
- জাপোরিজিয়ার হলিডে ক্যাম্পে হামলা: রাশিয়ার প্রশাসনিক প্রধানদের দাবি অনুযায়ী, আজভ সাগরের উপকূলবর্তী পর্যটন এলাকাটিতে রাতের বেলা ড্রোন হামলা চালানো হয়। তবে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ইউক্রেন আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
- সাইবেরিয়ার তেল শোধনাগারে আঘাত: ইউক্রেন সীমান্ত থেকে প্রায় ২,০০০ কিলোমিটার দূরে সাইবেরিয়ার তিউমেন (Tyumen) অঞ্চলের বিশাল তেল শোধনাগারে ইউক্রেনীয় ড্রোন সফলভাবে হামলা চালিয়েছে, যার ফলে সেখানে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
- কাস্পিয়ান সাগরে নজিরবিহীন দীর্ঘপাল্লার আক্রমণ: ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংস্থা (SBU) ও দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি নিশ্চিত করেছেন যে কাস্পিয়ান সাগরে রাশিয়ার ‘লুকোয়েল’ কোম্পানির ফিলানভস্কি (Filanovsky) তেল প্ল্যাটফর্মের পাশাপাশি ইরান থেকে সামরিক রসদ ও অস্ত্র বহনকারী দুটি মালবাহী জাহাজ এবং একটি যুদ্ধজাহাজে তাদের ড্রোন সরাসরি আঘাত হেনেছে।
- ইউক্রেনের ড্রোন প্রযুক্তির উৎকর্ষ: সীমান্ত থেকে ৭০০ থেকে ২,০০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে এই ধরণের নির্ভুল হামলা ইউক্রেনের ড্রোনের সক্ষমতা ও পাল্লা (Range) উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি পাওয়ার প্রমাণ দেয়।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো এবং পেছনের র সরবরাহ লাইন লক্ষ্য করে ইউক্রেনের এই ধারাবাহিক দূরপাল্লার আক্রমণগুলো মস্কোর যুদ্ধ পরিচালনার অর্থনৈতিক ও সামরিক সক্ষমতাকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে।
সূত্র: রয়টার্স


















