বিশ্বব্যাপী মানবিক সংকট ক্রমশ গভীরতর হওয়ার প্রেক্ষাপটে মানবিক সহায়তা জোরদার, বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিত এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার কার্যক্রমে নারীদের অংশগ্রহণ আরও বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ. বুধবার (১৭ জুন) জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের (ইকোসক) ২০২৬ সালের হিউম্যানিটারিয়ান অ্যাফেয়ার্স সেগমেন্টে দেওয়া বক্তব্যে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এই আহ্বান জানান. একই দিনে তিনি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ‘নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা’ (ডব্লিউপিএস) বিষয়ক উন্মুক্ত বিতর্কেও অংশ নেন. বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম ভূঁইয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন.
ইকোসক ও নিরাপত্তা পরিষদে প্রতিমন্ত্রীর মূল বক্তব্য
জাতিসংঘের এই গুরুত্বপূর্ণ উচ্চপর্যায়ের সভাগুলোতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মানবিক নীতি ও বৈশ্বিক শান্তি রক্ষায় দেশের দৃঢ় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করা হয়:
- জাতীয় অগ্রগতির চিত্র: প্রতিমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সম্প্রসারণ, দুর্যোগ প্রস্তুতি জোরদার, নারীর ক্ষমতায়ন এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সহায়তায় বিভিন্ন কার্যকর কার্যক্রম পরিচালনা করছে.
- শান্তিরক্ষায় নারীর ভূমিকা: নিরাপত্তা পরিষদের উন্মুক্ত বিতর্কে অংশ নিয়ে তিনি শান্তি প্রতিষ্ঠা, সংঘাত প্রতিরোধ এবং সংঘাত-পরবর্তী পুনর্গঠনে নারীদের অপরিহার্য ভূমিকার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন.
- বাংলাদেশি নারী শান্তিরক্ষীদের প্রশংসা: জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে নিয়োজিত বাংলাদেশি নারী শান্তিরক্ষীদের উচ্চ পেশাদারত্ব, নেতৃত্ব ও অনন্য অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং বিশ্বজুড়ে শান্তি ও নিরাপত্তা খাতে নারীদের অর্থবহ অংশগ্রহণ আরও বাড়ানোর আহ্বান জানান.
বৈশ্বিক সংকট, অর্থায়ন ও রোহিঙ্গা ইস্যু
বক্তব্যের একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল বর্তমান বিশ্বের চলমান সংঘাত, মানবিক অর্থায়ন সংকট এবং বাংলাদেশের রোহিঙ্গা সমস্যা:
| সংকটের ক্ষেত্র | প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য ও বৈশ্বিক আহ্বান |
| নারী ও শিশুদের দুর্ভোগ | বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে চলমান যুদ্ধবিগ্রহের কারণে নারী ও শিশুদের ক্রমবর্ধমান মানবিক দুর্ভোগের বিষয়টি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়. |
| অর্থায়ন সংকট | বিশ্বজুড়ে মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে দেখা দেওয়া তীব্র অর্থায়ন সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও সক্রিয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়. |
| রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তন | রোহিঙ্গা সংকটের একটি টেকসই ও স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়. একই সঙ্গে বাংলাদেশে সাময়িকভাবে আশ্রিত বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে দ্রুত, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের দাবি পুনর্ব্যক্ত করা হয়. |
১৮ জুনের পরবর্তী কর্মসূচি ও দ্বিপক্ষীয় বৈঠক
জাতিসংঘ সদরদপ্তরে বাংলাদেশের এই কূটনৈতিক তৎপরতা আজ ১৮ জুনও অব্যাহত থাকবে. আজকের নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী:
- পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম আজ ইকোসকের ২০২৬ হিউম্যানিটারিয়ান অ্যাফেয়ার্স সেগমেন্টের ‘হাই-লেভেল প্যানেল ডিসকাশন-২’-এ সরাসরি অংশ নেবেন.
- একই দিনে তিনি জাতিসংঘ সদরদপ্তরে ইউএন উইমেনের আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল ও নির্বাহী পরিচালক সিমা বাহাউসের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসবেন, যেখানে তিনি বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন.



















