দেশে শিশুদের মধ্যে হামজনিত নিউমোনিয়ার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় আগামীকাল রবিবার (৫ এপ্রিল, ২০২৬) সকাল ৯টা থেকে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করতে যাচ্ছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল এই জরুরি পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেন।
এই বিশেষ কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও নির্দেশনাসমূহ নিচে তুলে ধরা হলো:
১. লক্ষ্যমাত্রা ও এলাকা
- বয়সসীমা: ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী সকল শিশুকে এই কর্মসূচির আওতায় টিকা দেওয়া হবে।
- নির্বাচিত এলাকা: বরগুনা, পাবনা, চাঁদপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর এবং যশোরসহ মোট ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলাকে এই বিশেষ কার্যক্রমের জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে। মূলত যেসব এলাকায় সংক্রমণের হার বেশি, সেখানেই অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
২. ভিটামিন-এ ক্যাপসুল সংক্রান্ত বিশেষ নির্দেশনা
টিকার পাশাপাশি শিশুদের ভিটামিন-এ ক্যাপসুলও খাওয়ানো হবে। তবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী একটি বিশেষ শর্ত উল্লেখ করেছেন:
- শুধুমাত্র অসুস্থ শিশুরা এই বিশেষ কর্মসূচিতে ভিটামিন-এ ক্যাপসুল পাবে। সুস্থ শিশুদের ক্ষেত্রে নিয়মিত কর্মসূচির নিয়ম অনুসরণ করা হবে।
৩. আগে টিকা নেওয়া শিশুদের করণীয়
অনেক অভিভাবকের মনে সংশয় থাকলেও স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে:
- যেসব শিশু ইতোপূর্বে নিয়মিত রুটিন অনুযায়ী হামের টিকা নিয়েছে, তারাও এই বিশেষ কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবে।
- একাধিকবার এই টিকা নিলেও শরীরে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা স্বাস্থ্যঝুঁকি নেই; বরং এটি শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আরও শক্তিশালী করবে।
৪. সরকারি প্রস্তুতি ও আহ্বান
স্বাস্থ্যমন্ত্রী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেছেন এবং আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। উল্লেখ্য যে, এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইতোমধ্যে সারা দেশের স্বাস্থ্যকর্মীদের সকল ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত জনবল ও ওষুধের মজুত রাখা হয়েছে।
আগামীকাল সকাল থেকেই নির্ধারিত টিকাদান কেন্দ্রগুলোতে শিশুদের নিয়ে আসার জন্য অভিভাবকদের অনুরোধ জানানো হয়েছে।



















