বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ হিসেবে, দেশের প্রায় সকল রাজনৈতিক দল তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার বিষয়ে অভিন্ন মত পোষণ করেছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ। একই সাথে, নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণের মতো স্পর্শকাতর বিষয়েও উল্লেখযোগ্য ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে আজ এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি ঘোষণা দেন।
আজ বুধবার ঢাকার ফরেন সার্ভিস একাডেমির দোয়েল হলে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সাথে রাজনৈতিক দলগুলোর দ্বিতীয় পর্যায়ের অষ্টম দিনের আলোচনার শেষে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, “তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট ঐকমত্য তৈরি হয়েছে।” তিনি জানান, আজকের বৈঠকে এর গঠন, কাঠামো এবং এখতিয়ার নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে এবং এই সকল বিষয়ে খোলামেলা আলোচনার মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলো “অনেক কাছাকাছি” এসেছে।
নির্বাচনী সীমানা নির্ধারণে আশু ও দীর্ঘমেয়াদী সমাধান: তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার পাশাপাশি নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ বিষয়েও আলোচনা হয়েছে এবং এ বিষয়েও উল্লেখযোগ্য ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে অধ্যাপক আলী রীয়াজ জানান। তিনি উল্লেখ করেন, সীমানা নির্ধারণ বিষয়ে আশু এবং দীর্ঘমেয়াদী উভয় প্রকার ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলো একমত হয়েছে।
- আশু ব্যবস্থা: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনের সহায়তায় যথাযথ দক্ষতা সম্পন্ন ব্যক্তিদের নিয়ে একটি বিশেষায়িত কমিটি গঠন করা হবে (অথবা যদি ইতোমধ্যেই গঠিত হয়ে থাকে, তবে তাতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হবে)। এই কমিটির পরামর্শক্রমেই সংসদীয় এলাকা নির্ধারণের বিষয়ে সকলে একমত হয়েছেন।
- দীর্ঘমেয়াদী ব্যবস্থা: অধ্যাপক আলী রীয়াজ জানান, দীর্ঘমেয়াদী ব্যবস্থা হিসেবে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১৯ এর দফা ১ এর (গ) এর শেষে উল্লেখিত ‘এবং’ শব্দটির পর ‘আইনের দ্বারা নির্ধারিত একটি বিশেষায়িত কমিটি গঠনের বিধান’ যুক্ত করা হবে। এর অর্থ হলো, প্রতিটি আদমশুমারি বা অনধিক ১০ বছর পরে সংসদীয় নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণের জন্য একটি স্থায়ী বিশেষায়িত কমিটি গঠনের সাংবিধানিক বিধান যুক্ত হবে। এছাড়াও, সংশ্লিষ্ট জাতীয় সংসদের সীমানা নির্ধারণ আইন ২০২১ (যা ২০২৫ সালে সংশোধিত হয়েছে) এর ৮(৩) এর সঙ্গে যুক্ত করে ওই কমিটির গঠন ও কার্যপরিধি নির্ধারণ করা হবে।
‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ তৈরির লক্ষ্য ও অংশগ্রহণকারী দলসমূহ: উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত বিভিন্ন সংস্কার কমিশনের সুপারিশসমূহের বিষয়ে ঐক্য গড়ে এবং রাষ্ট্র সংস্কারের বিভিন্ন বিষয়ে একমত হয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ তৈরির লক্ষ্যে আজ দ্বিতীয় দফায় অষ্টম দিনের মতো দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনায় বসেছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন।
আজকের আলোচনায় কমিশনের সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিচারপতি মো. এমদাদুল হক, সফর রাজ হোসেন, ড. বদিউল আলম মজুমদার, ড. মো. আইয়ুব মিয়া এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার।
আলোচনায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), গণঅধিকার পরিষদ, গণসংহতি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি-সহ মোট ৩০টি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিগণ অংশগ্রহণ করেন।
কমিশন সূত্রে জানা গেছে, আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় আবারও কমিশনের সাথে রাজনৈতিক দলগুলোর আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এই ধারাবাহিক আলোচনা দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সংস্কারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।



















