আজ শনিবার (১১ এপ্রিল, ২০২৬) পাকিস্তানের ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সেই বহুল প্রতীক্ষিত শান্তি আলোচনা শুরু হতে যাচ্ছে। গত কয়েক দশকের মধ্যে দেশ দুটির শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিদের মধ্যে এটিই প্রথম সরাসরি আনুষ্ঠানিক বৈঠক। তবে লেবানন পরিস্থিতি এবং চুক্তির শর্ত নিয়ে পাল্টাপাল্টি অবস্থানে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত এক ধরণের উত্তেজনা বিরাজ করছে।
বৈঠকের প্রতিনিধিদল ও বর্তমান পরিস্থিতির গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল
এই বৈঠকে উভয় দেশই তাদের প্রভাবশালী নীতিনির্ধারকদের পাঠিয়েছে, যা আলোচনার গুরুত্বকে স্পষ্ট করে:
- যুক্তরাষ্ট্র: প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে আছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন ট্রাম্প প্রশাসনের প্রভাবশালী উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার এবং মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ।
- ইরান: তেহরানের পক্ষে নেতৃত্ব দিচ্ছেন পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। গতকাল শুক্রবার রাতেই তাঁরা বিশেষ নিরাপত্তায় ইসলামাবাদ পৌঁছেছেন।
২. আলোচনার মূল বাধা: লেবানন ইস্যু
বৈঠক শুরু হতে গেলেও একটি বড় ‘কিন্তু’ থেকে যাচ্ছে:
- ইরানের দাবি: লেবাননে ইসরায়েলের অব্যাহত হামলাকে ইরান ‘যুদ্ধবিরতি চুক্তি’র লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে। তাদের সাফ কথা, সব ফ্রন্টে (বিশেষ করে লেবাননে) হামলা বন্ধ না হলে আলোচনার টেবিল থেকে তারা সরে দাঁড়াতে পারে।
- যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান: ওয়াশিংটন ইঙ্গিত দিয়েছে যে, বর্তমান যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি মূলত ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সংঘাত কেন্দ্রিক, যার পরিধিতে লেবানন অন্তর্ভুক্ত নয়।
- ইসরায়েলের নীরবতা: ইসরায়েল এই শান্তি প্রক্রিয়া বা লেবানন হামলা নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
৩. ইসলামাবাদের অভূতপূর্ব নিরাপত্তা ও ‘রেড জোন’
শান্তি আলোচনাকে সফল করতে পাকিস্তান সরকার সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে:
- রেড জোন সিল: ইসলামাবাদের ‘রেড জোন’ এলাকাটি এখন সাধারণ মানুষ ও যানবাহনের জন্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
- সংবাদকর্মীদের জন্য ব্যবস্থা: দেশি-বিদেশি সাংবাদিকদের জন্য ‘জিন্নাহ কনভেনশন সেন্টার’ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। রেড জোনের বাইরে শত শত সাংবাদিক এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সংবাদের জন্য অপেক্ষা করছেন।
- বিশেষ প্রটোকল: ইরানের প্রতিনিধিদলকে পাকিস্তানের স্পেশাল সার্ভিস ইউনিট এবং কমান্ডো বাহিনীর মাধ্যমে বিশেষ প্রটোকল দেওয়া হচ্ছে।
৪. ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগ ও পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও উভয় দেশের শীর্ষ নেতারা আলোচনার মাধ্যমে একটি সমাধানের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, আজকের এই বৈঠকের সাফল্য নির্ভর করবে মূলত লেবানন ফ্রন্টে ইসরায়েলি হামলা থামানোর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র কোনো গ্যারান্টি দিতে পারে কি না তার ওপর।
যদি এই বৈঠক সফল হয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীলতা ফেরার পাশাপাশি বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম নাটকীয়ভাবে কমে আসতে পারে। অন্যথায়, উচ্চমূল্যের তেলের বাজার ও বৈশ্বিক অর্থনীতির অস্থিরতা আরও দীর্ঘায়িত হবে।
সূত্র : বিবিসি ও অন্যান্য


















